কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার সরকারী কলেজে আন্তঃবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পূর্বমহড়ার কারণ দেখিয়ে মাঠ পরিষ্কার করতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধনে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলানোর ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে শিক্ষক/শিক্ষার্থীরা। এঘটনার প্রতিকার এবং জড়িতদের শাস্তি দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রতিবাদ জানিয়ে মানব বন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করে ঘটনাটি কিভাবে এবং কারা করেছে তা তদন্তে ৩সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে জানালেন কলেজের অধ্যক্ষ। সোমবার দিনে এবং রাতে ঘটনাস্থলে খেলার মহড়া দিতে মাঠ প্রস্তুত করছিলেন যেসকল শিক্ষার্থীরা তারাই এসব গাছ কেটে এবং উপরে ফেলেছেন বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের। প্রকাশ্যে ও রাতের আধারে কলেজের ১৬টি গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরাও। মঙ্গলবার (০৫ মে) দুপুরে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের বিজ্ঞান ভবনের সামনে গাছ কর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বিদ্যালয়ের ফলজ, বনজ এবং ঔষধি ১৬টি গাছ কর্তনের অভিযোগ তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কলেজের বিশালাকৃতির খেলার মাঠ থাকা সত্বেও নতুন করে অস্থায়ী খেলার মাঠ তৈরির অজুহাতে রাতে গতকাল রাতে এবং সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী এসব গাছ কেটে ফেলেছে। প্রকাশ্যে সকলের সামনে নিষ্ঠুর বৃক্ষ নিধনের কাজটি অবশ্যই প্রিন্সিপ্যাল স্যারের ইন্দনেই ঘটেছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী উর্মি আরা খানমের অভিযোগ, ‘ইনডোর কলেজ ক্যাম্পাসে সবুজায়িত পরিবেশ, সুন্দর মনোরম করতে এসব গাছ রোপন করা হয়েছিলো। অথচ সেগুলি সুরক্ষার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ এমন নিষ্ঠুরতায় গাছগুলি কাটবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। গোটা ক্যাম্পাস যেখানে নিশ্চিদ্র সিসি ক্যামেরার আওতায়, সেখানে কে বা কারা গাছগুলি কেটেছে তাদের খুজে পাওয়া যাবে না এটা হাস্যকর’।
গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের একডেমিক জোনকে ছায়া নিবির করতে কয়েক বছর ধরে গাছগুলি লাগিয়ে নিজে হাতে পরিচর্যা করে বড় করে তুলি। এগুলো কোন যুক্তিতেই কাটার অধিকার কেউ রাখেন না। এই ন্যাক্কার জনক বৃক্ষনিধনের তীব্র প্রতিবাদসহ যারা এর সাথে জড়িত আমরা তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানায়’।
কলেজের উপাধাক্ষ্য প্রফেসর মোহাঃ আব্দুল লতিফ জানান, ‘আমরা কলেজের শিক্ষক পরিষদের পক্ষ এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছি’। যে বা যারা এ গাছ কর্তন করেছে তাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে কলেজে বিশালায়তনের খেলার মাঠ রেখে ইনডোর একাডেমিক ক্যাম্পাসের গাছ কর্তন করা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারেনা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মোঃ রুহুল আমীন বলেন, ‘ইতিমধ্যে গাছ কর্তনের বিষয়ে শিক্ষক পরিষদ ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেয়া লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এব্যপারে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। ঘটনার সময় কর্মরত গার্ডদের কাছে লিখিতভাবে জবাব চাওয়া হয়েছে’। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’।


