বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সরকারের মতো জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয় ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
/ ৬১ দেখা হয়েছে
বার : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ন

এনএনবি : জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও জনমুখী প্রশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পদোন্নতি বা পছন্দের পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারত্বের সঙ্গে আপস করলে তা জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এই সম্মেলন ৬ মে পর্যন্ত চলবে এবং এটি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে- জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলে জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব। একই সঙ্গে অতীতের শাসনামলে প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত করার উদাহরণও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারত্বের পরিচয় দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের মানসিকতা থাকতে হবে এবং দেশের যে কোনো স্থানে কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, কোনো সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদও স্থায়ী নয়। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যে কোনো সময় যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকলে জনপ্রশাসনে পেশাদারত্ব আরও দৃঢ় হবে। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও ভঙ্গুর অবস্থা বিরাজ করছিল। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিও নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এরইমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ভাতা চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার লক্ষ্যের কথা জানান।
কৃষিখাতের উন্নয়নে সেচব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সম্প্রীতি বাড়বে।
নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরাই সরকারের নীতি বাস্তবায়নের প্রধান সেতুবন্ধন। তাদের সততা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার ওপর সরকারের সাফল্য নির্ভর করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ ও নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও স্বেচ্ছাসেবামূলক অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতভেদ থাকতেই পারে, তবে দেশের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মাঠ প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সুশাসন বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি আমরা করতে চাইছি। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। সেটি হচ্ছে আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সাথে।”
নির্দেশনামূলক বক্তব্যে সরকারপ্রধান বলেন, “প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইন কানুন ও জটিতলতাকে অজুহাত হিসেবে আমরা ব্যবহার না করি বরং বাস্তবসম্মত কার্যকর ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা আমরা প্রশাসনের সকল পর্যায়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। যাতে করে জনগণ সময়মত সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত যে সুফল লাভ করতে পারে।” সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়নের কর্মকা-ের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এই সম্মেলনে চলাকালে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সম্মেলনে মোট অধিবেশন থাকছে ৩৪টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি।
বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব সম্মেলনে উত্থাপিত হবে। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে- ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম জোরদারকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্ম-সৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্নেন্স, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ