কাগজ প্রতিবেদক ॥ বার বার স্থান পরিবর্তন করেও শেষ রক্ষা হয়নি কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে নৌ পুলিশের উপর গু’লিবর্ষণ মা’মলার প্রধান আ’সামী চরমপ’ন্থী কালু বাহিনীর অন্যতম সদস্য আব্দুল আলীম ওরফে চিকন আলীম (৪৪)। ২ সে শনিবার সন্ধা ৬টার দিকে রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকা হতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাবের যৌথ টিম তাকে গ্রে’ফতার করে। জানা যায, গত ২২ এপ্রিল রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ঘাট এলাকায় গড়াই নদীর মুখ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশের একটি দল অভিযানে গেলে ৮/৯ জন দু’ষ্কৃতিকারী স্পীডবোটযোগে এসে নৌ পুলিশের টহল টীমকে লক্ষ্য করে শর্টগানের গু’লি ছুড়তে থাকে। দু’ষ্কৃতিকারীদের ছোঁড়া গু’লিতে ইনচার্জসহ ৪ জন পুলিশ সদস্য এবং নৌ পুলিশের নৌকার মাঝি জ’খমপ্রাপ্ত হন। এ ঘটনায় লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল সদর এজাহার দায়ের করে (মামলা নং-২৪/১১৯, তারিখ-২২/০৪/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- ১৫(১) বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ তৎসহ ১৮৬/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩২৪/৩০৭/ ৪৩১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়)। চঞ্চল্যকর এই ঘটনার পরপরই র্যাবও আসামীদের গ্রে’ফতারে তৎপর হয়। নৌ পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেফতারের চেষ্টাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২ সিপিসি-১ ও র্যাব-৩ সিপিসি-২ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গতকাল শনিবার (২ মে) বিকেল ৬টার দিকে রাজধানী ঢাকার কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৪ পুলিশ কোয়ার্টারের সামনে ফুট ওভারব্রীজের নিচে পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালিয়ে তদন্তেপ্রাপ্ত (মামলার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত) আসামী আব্দুল আলীম ওরফে চিকন আলীম (৪৪) কে গ্রে’ফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত চরমপন্থী চিকন আলীম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দয়ারামপুর ঘোষপাড়ার বেলায়েত ওরফে বিলাই এর ছেলে। র্যাব সূত্রে জানা যায়-নৌ পুলিশের উপর গুলি বর্ষণের পর থেকে আব্দুল আলীম গ্রে’ফতার এড়াতে বার বার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে। তবে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সে র্যাবের জালে ধরা পড়ে। সে জাসদ গণবাহিনীর ৯০ দশকের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সামরিক প্রধান পলাতক চরমপন্থী নেতা কালুর পক্ষে কুমারখালী-খোকসা ও পদ্মা নদীতে প্রভাব বিস্তারে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে মর্মে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। অপরদিকে একটি সুত্র জানিয়েছে, ওই গভীর রাতে গহীন পদ্মা নদীতে নৌ পুলিশের অবস্থান নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকৃত পক্ষে তারা অবৈধ বালু উত্তোলন কারীদের আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করতে যাচ্ছিলেন না অন্যকোন অভিযান। যদি অভিযানই যাবেন তারা তা হলে তাদের কাছে থাকা সরকারী অস্ত্র ব্যবহার হয়নি কেন সে সব বিষয়ে জানতে নৌপুলিশের ওসি শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।


