কৃষি প্রতিবেদক ॥ সাদা লম্বা বেগুন সারা বছর চাষ করতে পারেন,এটা হাইব্রীড জাতের একটি বেগুন। খেতে খুবই সুস্বাদু এবং প্রচুর ভিটামিন রয়েছে এই বেগুনে। জমির পাশাপাশি টবেও এটি ভাল ফলন হয়ে থাকে। আসুন জেনে নিই কিভাবে টবে সাদা লম্বা বেগুন চাষ করব। সাদা বেগুন পুষ্টি গুণ: শরীরে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাদা বেগুন খেতে পারেন। এটি ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা কমাতে পারে। সাদা বেগুন পাতায় উপস্থিত ফাইবার এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্তে চিনির পরিমাণ কমাতে পারে। সাদা বেগুন খাওয়া খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে। এতে উপস্থিত পুষ্টি উপাদান রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এর সাহায্যে আপনার হার্টও দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকতে পারে। সাদা বেগুন ফাইবার সমৃদ্ধ, যা ওজন কমাতে পারে। এটি সেবন করলে, আপনার পেট দীর্ঘ সময়ের জন্য ভরা থাকে, যার কারণে আপনি অতিরিক্ত খাওয়া এড়াতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে এটি আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। সাদা বেগুন ফাইবার সমৃদ্ধ, যা ওজন কমাতে পারে। এটি সেবন করলে, আপনার পেট দীর্ঘ সময়ের জন্য ভরা থাকে, যার কারণে আপনি অতিরিক্ত খাওয়া এড়াতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে এটি আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। সাদা বেগুন ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট নামক প্রাকৃতিক রাসায়নিক সমৃদ্ধ, যা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য পরিচিত। এটি আপনাকে শরীর এবং মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ উন্নত করতে সহায়তা করে। মস্তিষ্কে ভাল রক্ত প্রবাহের কারণে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া মানসিক সমস্যাও দূরে থাকে।মাটি প্রস্তুতকরণ: টবে বেগুন রোপনের জন্য ২ ভাগ এঁটেল দোআঁশ বা পলি-দোআঁশ মাটি, ২ ভাগ ভার্মি কম্পোস্ট বা পঁচা গোবর ১ ভাগ কোকোপিট বা গাছের গুড়া, ৫০০ সরিষা+ নিম খৈল, ২৫০ গ্রাম হাড়ে গুঁড়া। মাটি তৈরি হয়ে গেলে তা ২০-২৫ দিন ধরে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর আবার মাটি খুঁচিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।চারা সংগ্রহ: দেশের বিভিন্ন হাটে-বাজারে বা শহরের নার্সারিতে বেগুনের চারা কিনতে পাওয়া যায়। সেখান থেকে সুন্দর ও বলিষ্ঠ বেগুন চারা সংগ্রহ করতে পারেন। এ ছাড়া ভালো জাতের বীজ কিনে এনে চারা করে নিতে পারেন। বিভিন্ন সার ও বীজের দোকানের পাশাপাশি অনেক অনলাইন ভিত্তিক পেইজেও বীজ বিক্রয় করা হয়। অন্যন্য পরিচর্যা: বেগুন গাছ রোদ পছন্দ করে তাই এটিকে রোদে রাখতে হবে, তবে হালকা রোদেও এটি হয়। পানি দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে অবশ্যই টবের মাটি শুকিয়ে যাবার আগেই টবে পানি দিতে হবে। চারা রোপনের ১ সপ্তাহ পরে ১ চামচ ইউরিয়া, ১ চামচ ফসফেট, ১ চামচ পটাশ এবং আধা চামচ ম্যাগনেসিয়াম সালফেট একসাথে মিশিয়ে আড়াই চামচ করে প্রত্যেক ২০ দিন পর পর প্রয়োগ করতে হবে। এভাবে করলে বেগুন গাছ প্রায় ২ বছর গাছটি ফল দিতে থাকবে। বেগুন গাছের বৃদ্ধি দ্রুত গতিতে হয়। গাছ সোজা রাখার জন্য কাঠি বেঁধে দেওয়া যেতে পারে। বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে সার প্রয়োগের পাশাপাশি মাঝে মাঝে গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হয়। গাছের বয়স বাড়লে গোড়ার দিক থেকে ২০ সেন্টিমিটার রেখে উপরের অংশ ছেঁটে দিলে কেটে দেওয়া অংশ থেকে নতুন শাখা-প্রশাখা বের হয়। সেখানেও বেগুন আগের মতো বেগুন ধরবে।


