কাগজ প্রতিবেদক ॥ গ্রীষ্মের ঝড় বৃষ্টি এমনকি গরম অনুভবে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং’র কবলে কুষ্টিয়া জুড়ে। এতে ভেস্তে যেতে বসেছে ছোট-বড় ব্যবসা, শিল্পকারখানা। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জেলায় প্রতিদিন ৬৪ মেগওয়াট কিন্তু বরাদ্ধ আসছে মাত্র ৫১ মেগওয়াট বাড়তি ১০ থেকে ১২ মেগওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিয়ে ঘাটতি পুরণ করতে হচ্ছে বলে জানালেন বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, কুষ্টিয়া শহর ও ৬টি উপজেলায় কয়েক হাজার বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। ঝড়, বৃষিতে অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ আর গরমের মধ্যে বিদ্যুতের পাখার বদলে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করে দিন কাটে কুষ্টিয়া শহরের ব্যবসায়ীদের। আবাসিক বাড়ির রান্না থেকে দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে মারাত্মক ভাবে। দিনে দুই-তিন ঘন্টা বিদ্যুত থাকে না। কর্মব্যস্ততা শেষে বাড়ী ফিরে রাস্তায় হেটেই রাত পার করতে হয় নি¤œবিত্ত, মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের। এমন দাবী এ সব সাধারণ মানুষের। কুষ্টিয়া শহরের রিক্সাচালক আব্দুল মোতালেব জানান, তার বাড়ী মোল্লাতেঘরিয়া। দিনভর শহরে রিক্সা চালিয়ে রাতে যখন বাড়ী যায় তখন বিদ্যুত থাকে না। ঝড়-বৃষ্টি হলে অন্ধকারে ভাত খেতে হয় আর গরমের মধ্যে রাস্তায় হেটেই তার রাত কেটে যায়। বিদ্যুতের এমন লোডশেডিং’র কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবনে দারুন ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। তার মত একই কথা জানাালে সফি হোটেলের মালিক সোহেল। সে জানালো দিনে-তিন-চারবার বিদ্যুত চলে যায়। এতে ব্যবসায় দারুন ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
লোডশেডিং’র কবলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পাঠদানে ব্যঘাত ঘটছে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নবীনুর জানালেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত কলেজের ক্লাস চলে। এর মধ্যে এক ঘন্টা বিদ্যুত থাকে না। তিনি জানান, সরকার বিদ্যুতের ঘাটতির বিষয়ে যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। খুব শিঘ্রই এর সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন।
কুষ্টিয়া ওজোপাডিকো ক্যাম্পসের সুইজ রুমের অপারেটর সুফল অধিকারী জানালেন, শহর চালাতে সর্বক্ষণ ১২টি ফিডার কাজ করে থাকে। এখন প্রতিদিন গ্রীড থেকে ১১ মেগওয়াট বিদ্যুত পাচ্ছে সে অনুযায়ীই সরবরাহ হচ্ছে। বরাদ্ধ কম আসলে লোডশেড দেয়া লাগে বলে তিনি জানালেন।
কুষ্টিয়া ওজোপাডিকো ডিভিশন-১-’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আমজাদ হোসেন জানান, প্রতিদিন পিক আওয়ারে ৬২ থেকে ৬৪ মেগওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা কিন্ত এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৫১ মেগওয়াট। ১০ থেকে ১২ মেগওয়াট বিদ্যুত ঘাটতি থাকার কারণে আনুপাতিক হারে লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন কুষ্টিয়া ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন। তিনি আরও জানান, এখন বৈশাখ মাস ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গাছের ডাল, পালা পড়ে অনেক সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। ট্রান্সফরমায় ত্রুটি দেখা দিচ্ছে এ সব কারণেও ফিডার বন্ধ রাখতে হয়। তবে তা সাময়িক। তিনি বলেন, সরকার আন্তরিক আছে বিদ্যুতের ঘাটতি পুরণে। আমরা চাহিদা মাফিক বিদ্যুত পেলে তখন আর ঘাটতি থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


