এনএনবি : ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে সংকট সৃষ্টি হওয়ায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে জার্মানির বিমান সংস্থা লুফথানসা। খরচ কমাতে চলতি গ্রীষ্মকালীন সূচি থেকে ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে এয়ারলাইন্সটি।
মঙ্গলবার লুফথানসা জানিয়েছে, তারা ইউরোপীয় নেটওয়ার্কের ফ্লাইট কাটছাঁট করছে। তবে বৈশ্বিক রুটের নেটওয়ার্কে যাত্রীরা চলাচল করতে পারবেন। ফ্লাইট বাতিলের ফলে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন উড়োজাহাজের জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে লুফথানসা। বিমান সংস্থাটি জানায়, প্রথমেই ১২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে মঙ্গলবার। ফ্রাঙ্কফুট, পোল্যান্ড এবং নরওয়ের রুটের ফ্লাইট এর মধ্যে পড়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধর শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উড়োজাহাজের জ্বালানি উৎপাদন এবং পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। কেএলএম-ফ্রান্স, ডেল্টাসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সও সাময়িকভাবে কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং কয়েকটি এয়ারলাইন্স খরচ কুলাতে টিকেটের দাম বাড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধের অবসান না হলে ভ্রমণকারীদের জন্য টিকেটের দাম আরও বাড়তে পারে এবং আরও ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। উড়োজাহাজের জ্বালানির একটি প্রধান উৎস হল উপসাগরীয় অঞ্চল। ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানি আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই সেখান থেকে আসে। আর এই জ্বালানি পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যে প্রণালি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে কার্যত অচল হয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালনি সংস্থা গতসপ্তাহে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, ইউরোপে মাত্র ছয় সপ্তাহ মতো উড়োজাহাজের জ্বালানি অবশিষ্ট আছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ইউরোপে অনেক ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল সংস্থাটি।


