কাগজ প্রতিবেদক ॥ হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সারাদেশের মতো কুষ্টিয়ায়ও ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে শুরু হওয়ায় এতে দুর্ভোগে পড়েন আগত রোগীর স্বজনরা। হামের টিকাদান কর্মসুচীর উদ্ধোধন অথচ ব্যানার টাঙ্গানো হয়েছে কোভিড-১৯’র। এমন অব্যবস্থাপনা আর অনিয়মের মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়ায় হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্ধোধন করা হয়। টিকাদান শুরু হওয়ায় কথা সকাল ৮টা থেকে। সে অনুযায়ী গতকাল সোমবার রোগীর স্বজনরা উপস্থিতও হন ৪ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। কিন্তু দেখা গেল অদ্ভুত চিত্র। কোভিড ১৯ টিকাদানের ব্যানার টানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কেউ উপস্থিত নেই। চত্বরটি ফাকা। পরে সময় পরিবর্তন করে সকাল ১০টায় কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানানো হয়। তবে এটা জানতেও চরম বেগ পেতে হয় রোগীর স্বজনদের। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন কেন্দ্রে আসা রোগীর স্বজনরা। আমলাপাড়ার বাসিন্দা রুমা খাতুন জানান, সকাল ৮টায় টিকা দেয়ার কথা থাকলেও তারা বসে আছেন ১০টা পর্যন্ত কারো কোন খোঁজ নেই। তিনি আরও বলেন, হামের টিকা আরও আগে দেয়ার দরকার ছিল এখন দিয়ে লাভ কি। তার পরও এত অব্যবস্থাপনা মেনে নেয়া যায় না। শহরের বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, এখন কোভিড পরিস্থিতি এখন হামের টিকা শিশুদের দেয়া বড় কঠিন। আগেই এ ব্যবস্থা নেয়ার দরকার ছিল বলে তিনি মনে করেন। এদিকে কেন্দ্রে হাম-রুবেলা টিকা দানের ব্যানারের পরিবর্তে কোভিড-১৯’র ব্যানার দেখে অনেক রোগীর স্বজনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় অনেকে বিভ্রান্তে পড়েন। এ বিষয়ে সংশ্লিট ব্যক্তির সাথে কথা বললে তিনি জানান তাকে অফিস থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাই তিনি ব্যানার টাঙ্গাচ্ছেন। কর্তব্যরত সুপার ভাইজারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি এ বিষয়ে এড়িয়ে যান এবং তিনি বলেননি বলে অস্বিকার করেন। সময় ও ব্যানেরের বিষয়ে অভিযোগ অস্বিকার করেন এবং কার্যক্রমের কোন সমস্যা নেই বলে জানান জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৬টি স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি ১ হাজার ৬৮৪টি অস্থায়ী কেন্দ্রে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন টিকাদানকারী ও দুজন করে স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় জেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৯২৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী সচেতন মহলের।


