কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির সংস্কারের সরকারী অর্থ নিয়ে নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠেছে মিরপুর উপজেলা হিন্দু-বৈদ্ধ্য-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অর্জুন কর্মকারের বিরুদ্ধে। সরকারী অনুদানের শতকরা হিসাবে অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া শ^শান ঘাট নির্মানে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, চলতি অর্থবছরে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চুনিয়াপাড়া বিশ^াসপাড়া দূর্গা মন্দির এবং কুঠিপাড়া মন্দির সংস্কারে জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয় সরকার। সেই টাকা নিতে গিয়ে বিড়ম্বণায় পড়তে হয়েছে দুই মন্দিরের সভাপতিদ্বয়কে। এছাড়া অনুদানের অর্থের মধ্যে থেকে অর্থ কর্তন করে সে। পরবর্তীতে জনরোষের মাধ্যমে সে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে অর্জুন কর্মকার। এছাড়া মিরপুর বিসর্জন ঘাটে ঘর নির্মাণের টাকা আত্মসাত করে নি¤œমানের টিনসেডের একটি চালা তৈরী করে সরকারী অনুদানের অর্থ তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চুনিয়াপাড়া বিশ^াসপাড়া দূর্গা মন্দিরে সভাপতি নির্মল বিশ^াস অভিযোগ করে জানান, দুই কিস্তিতে মন্দির সংস্কারের জন্য টাকা ৫৭ হাজার ৫শ টাকা করে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পরবর্তীতে দ্বিতীয় কিস্তিতে সেই টাকার চেক তোলার সময় অর্জুন কর্মকার আমার কাছ থেকে ১৭ হাজার ৫শ টাকা নিয়ে নেয়। তিনি বলেন যে এই টাকা উপজেলায় দিতে হবে। এজন্য কেটে নিলাম। পরবর্তীতে উপজেলায় খোজ নিয়ে জানতে পারি যে, মন্দিরের টাকা থেকে উপজেলার কোন কর্মকর্তা ঘুষ নেয়নি। পরে ঐ টাকার হিসাব অর্জুন কর্মকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা ভ্যাট কেটে নিয়েছে বলে জানায়। পরবর্তীতে অনুদানের ব্যপারে উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি এবং অন্যান্যদের জানালে অর্জুন কর্মকার সেই টাকা ফেরত দেয়।
কুঠিপাড়া পূজা মন্দিরের সভাপতি বুদ্ধি’র সাথেও একই ঘটনা ঘটিয়েছে অর্জুন কর্মকার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মিরপুর উপজেলায় মন্দির, বিসর্জন ঘাট সংস্কারের জন্য সরকারী বরাদ্ধ নিতে গেলে বরাদ্দের কিছু অংশ নিয়ে নেয় অর্জুন কর্মকার। তাকে টাকা না দিলে অনুদান পাওয়া যায় না। কারণ অর্জুন কর্মকার হলো হিন্দু-বৈদ্ধ্য-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের উপজেলার সাধারন সম্পাদক।
উপজেলা পূজা উৎযাপন ফ্রন্টের সভাপতি সুশিল কুমার পাল জানান, অর্জুন কর্মকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকার মন্দির সংস্কারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইতিপূর্বেও ছিলো। সাম্প্রতি চুনিয়াপাড়া বিশ^াস পাড়া দূর্গা মন্দিরের টাকা নয়-ছয় নিয়ে লোক জানাজানি হলে সেই টাকা ফেরত দিয়েছে। এছাড়া মিরপুরের বিসর্জন ঘাটে নি¤œ মানের কাজ করে সরকারী টাকা আত্মসাত করেছে অর্জুন কর্মকার।
তিনি অভিযোগ করেন, হিন্দু-বৈদ্ধ্য-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সাধারন সম্পাদক হওয়ার কারণে উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায় তার কাছে এক প্রকার জিম্মি। প্রত্যন্ত এলাকার মন্দির সংসারের টাকা আত্মসাত করে সে নিজের বাড়ী সংস্কার করেছে এমন কথা এখন সবার মুখে মুখে।
তবে মন্দির সংস্কারের টাকা আত্মসাত এবং তার হাত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সুশিল কুমার পাল।


