ইবি প্রতিনিধি ॥ আর্থিক জটিলতা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রহল-১ ও শহীদ আনাস হলের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়েছে। উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ছাত্রহল-১ উদ্বোধনের আশ্বাস দিলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে জাগো নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কর্তৃপক্ষ নতুন করে মার্চ মাসে উদ্বোধনের কথা জানায়। তবে মার্চ পেরিয়ে গেলেও সে আশ্বাসও বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার পর শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রহল-১ এর একটি ভবন এবং শহীদ আনাস হলের নতুন ভবন খুলে দেওয়া হবে। এদিকে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, আর্থিক সংকট না থাকলেও নির্ধারিত বাজেট অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। ফলে একের পর এক সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এসব আশ্বাস নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্রহল-১ এর একটি ভবন প্রস্তুত করে হলের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ডাইনিং, লিফট এবং টাইলসের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। টাইলস নিয়ে অনিয়ম থাকায় নতুন টাইলসের অপেক্ষায় কাজ আংশিক স্থবির হয়ে আছে। প্রশাসনের দাবি, কাজ চলমান থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে তা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তেলের নতুন সংকটের কথাও উল্লেখ করা হয়, যা বড় মেশিন পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঈদুল আজহার পর ছাত্রহল-১ এর একটি ভবন চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে জাগো নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রশাসন জানায়, শহীদ আনাস হলের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন এবং শেষ মুহূর্তের গোছগাছ চলছে। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তব অগ্রগতিতে সেই দাবির প্রতিফলন স্পষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী প্রশাসন অর্থ পরিশোধ করলেও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপে পড়ে। ২০১৪ সালের রেট শিডিউলে প্রকল্পটি অনুমোদিত হওয়ায় ব্যয়ের সঙ্গে বিলের অমিল তৈরি হয়েছে। যেখানে দুই কোটি টাকার বিলে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ কারণে লোকসানের আশঙ্কায় ঠিকাদারদের মধ্যে অনীহা দেখা দেয়। তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। গত ফেব্রুয়ারিতে ফোনালাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত কন্ট্রাক্টর হাজী নুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা চাই ছাত্রহল-১ এর দুটি অংশ একসঙ্গে হস্তান্তর করতে। আমাদের বাজেট স্বল্পতা নেই। নির্ধারিত বাজেটেই কাজ করা সম্ভব, কিন্তু সরকারিভাবে তা অনুমোদন পাচ্ছে না। ছুটির আগে আমাদের মিটিং হয়েছে। অর্ধেক বাজেট পেলেও হলের একটি অংশের কাজ শেষ করতে পারব। আশা করি তিন মাসের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।


