এনএনবি : ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনায় অগ্রগতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘ব্যাকুল’ হয়ে আছেন। তিনি তার আলোচক দলকে ইরানের সঙ্গে সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় বসার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার হাঙ্গেরি সফরকালে বুদাপেস্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, ইরান যদি আন্তরিকভাবে আলোচনা করে তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার কিছু অংশ আলোচনায় গঠনমূলকভাবে এগোলেও অন্যরা যুদ্ধবিরতি নিয়ে ‘মিথ্যাচার’ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি একটি ‘ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ভ্যান্স বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমাকে এবং গোটা আলোচক দলকে (যার মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও রয়েছেন) বলেছেন, যেন আমরা সদিচ্ছা নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করি।” তিনি আরও বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) অধীর হয়ে আছেন। তিনি দ্রুত অগ্রগতি দেখতে চান। তিনি আমাদের সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমার বিশ্বাস তারা (ইরান) যদি আন্তরিক হয় তাহলে আমরা একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারব। “তবে এটি বড় একটি ‘যদি’, কারণ আদতে সবকিছুই নির্ভর করছে ইরান কীভাবে আলোচনা করবে তার ওপর। আমি আশা করি তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।” ওদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, তিনি আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে বৈঠকের জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেল ও গ্যাস পরিবহনের ওপর অবরোধ স্থগিত করতে রাজি হয়, তবেই এই চুক্তি কার্যকর হবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, বর্তমানে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ভেতরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন। ভ্যান্সের কথায়, “আমরা ইরানের বিভিন্ন অংশের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখছি। “একদিকে, কিছু মানুষ ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে, অন্যদিকে, তাদের ব্যবস্থার ভেতরের কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের সামরিক সাফল্য এবং যুদ্ধবিরতির প্রকৃতি নিয়ে মিথ্যাচার করছে।” এ কারণেই তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘ভঙ্গুর’ বলে অভিহিত করেছেন বলে জানান।
ওদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তেহরান পাল্টা হামলা বন্ধ করবে এবং জলপথে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেবে, তবে শর্ত হল, ইরানের ওপর সব হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান যদি আলোচনায় আন্তরিক না হয়, তবে ট্রাম্প আবারও ওয়াশিংটনের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগের পথে ফিরে যাবেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তারা শিগগিরই বুঝতে পারবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এমন কেউ নন যাকে নিয়ে হেলাফেলা করা যায়।”


