এনএনবি : জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের গ্যাসনির্ভর সার কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘নেভিগেটিং দ্য গ্লোবাল এনার্জি শক: ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড বাংলাদেশের ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে ইউরিয়া সার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষি খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। শিল্প সচিব বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে দেশে জ্বালানি সংকট আরও তীব্রতর হচ্ছে। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন, সার কারখানা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। শিল্প সচিব আরও বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট নতুন নয়। তবে ইরান-ইসরাইলসহ আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সংকট বর্তমানে আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাত, বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর সার কারখানাগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে কার্যত একটি চালু রয়েছে। ফলে আসন্ন মৌসুমে সার মজুতে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রাখার লক্ষ্য থাকলেও বর্তমান মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সময় সার কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে কৃষি ও শিল্প—দুই খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোলার প্রযুক্তির মান যাচাইয়ে বিএসটিআই ল্যাবের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। সেবা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জামালপুরে সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের কথা দীর্ঘদিন ধরে শোনা গেলেও এখনও খনন কার্যক্রম শুরু হয়নি। এসব সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র দ্রুত অনুসন্ধান করা গেলে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চলমান বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করছে এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। ডিসিসিআই প্রেসিডেন্ট তাসকিন আহমেদের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া, বিএসআরইএ প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আল মাহমুদ জ্বালানী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম,ড. ইজাজ হোসেন, বিএপিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন, পেট্রোল পাম্প ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক, আইডিসিওএলের সিআইও নাজমুল হক প্রমুখ।


