এনএনবি : যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে অব্যাহত চাপের মুখে ‘মানবিক ও রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ’ দ্ইু হাজার ১০ বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কিউবা।
বৃহস্পতিবার যাদের ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে তাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক, নারী, অল্পবয়সী এবং ষাটোর্ধ্বরা রয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কিউবা দূতাবাস। “হোলি উইকের (ইস্টার সানডের আগে) ধর্মীয় উদ্যাপনের প্রেক্ষাপটে এদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, এটা আমাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার নিয়মিত প্রথা,” বলেছে তারা। গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতৃত্ব পরিবর্তনে তার আকাক্সক্ষা সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে যাচ্ছেন, এরই মধ্যে তিনি দ্বীপদেশটির ওপর তেল অবরোধও দিয়েছেন, যার দরুন কমিউনিস্ট পার্টিশাসিত দেশটিকে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট ও বিস্তৃত লোডশেডিংয়ে ভুগতে হচ্ছে, লিখেছে বিবিসি। অবশ্য কয়েকদিন আগে রাশিয়ার মালিকানাধীন একটি ট্যাংকার আনুমানিক ৭ লাখ ৩০ হাজার অপরিশোধিত তেল নিয়ে কিউবা পৌঁছেছে। জানুয়ারির পর এটাই ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটিতে যাওয়া প্রথম অপরিশোধিত তেলের চালান।
কিউবার জেলখানাগুলো হাজারও রাজনৈতিক বন্দিতে ভরপুর বলে অভিযোগ করে আসছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। দেশটিতে সরকারের সমালোচকদের নানা ধরনের হয়রানি ও বিচারের মুখোমুখি হতে হয় বলেও তাদের ভাষ্য। কারাগারে বন্দিদের সদাচারণ, সাজার অধিকাংশটাই শেষ হওয়া, শারীরিক অবস্থাসহ সবকিছু ‘যতœসহকারে বিবেচনায়’ নিয়ে কারা কারা মুক্তি পাবে তা ঠিক করা হয়েছে, বলেছে দূতাবাস। এ নিয়ে চলতি বছর দ্বিতীয়বার বন্দি মুক্তির ঘোষণা দিল কিউবা। এর আগে মার্চে ভ্যাটিকানের সঙ্গে আলোচনার পর ৫১ কারাবন্দিকে ছেড়েছিল তারা। ২০২৫ সালেও ভ্যাটিকান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এক চুক্তির আওতায় ৫৫৩ বন্দিকে ছাড়ে হাভানা।


