গত ২৪ ঘন্টায় ঠান্ডা জ্বর সর্দি কাশি জনিত জটিলতা নিয়ে ভর্তি ৩শ ২৪ শিশু
কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু মধ্যদিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে ভর্তি হওয়া ৫শিশুর মৃত্যু হলো। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইজা নামে সাড়ে ৫ মাস বয়সী এক কণ্যা শিশু এবং জেনারেল হাসপাতালে রাত সাড়ে ৯টায় ইব্রাহিম নামের ৮ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করেছে। নতুন করে এই দুই শিশুর মৃত্যুর মধ্যদিয়ে গত দুইদিনে কুষ্টিয়াতে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসাপতালে ভর্তি হওয়া ৫শিশুর মৃত্যু হলো।
শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হওয়া শিশু আইজা শহরের রেনউইক মোড়ের বাসিন্দা মোমিনুর রহমানে কন্যা এবং কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু হওয়া শিশু ইব্রাহিম দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনে ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা এসএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত ৩০ মার্চ ঠান্ডা জ্বর সর্দি কাশিসহ হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলো শিশু আইজা। শিশুটির হামের উপসর্গ ছাড়াও নিউমোনিয়া জটিলতায় ভুগছিলো। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রাত সাড়ে ১১টায় মারা যায়।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: হোসেন ইমাম জানান, ‘গত শুক্রবার হামের উপসর্গ নিয়ে দৌলতপুর থেকে এসে ভর্তি হয়েছিলো শিশু ইব্রাহিম। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়’। কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন ডা: শেখ মোহাম্মদ কামাল জানান, ‘শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৫০ শয্যার সদর ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপতাল এবং ৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেøক্সে গত ২৪ ঘন্টায় ঠান্ডা জ্বর সর্দি কাশি জনিত জটিলতা নিয়ে ভর্তি আছে ৩শ ২৪ শিশু, এরমধ্যে নমুনা পরীক্ষাসহ নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯, মৃত্যু সংখ্যা- ০৫। সর্বশেষ গত ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা- ২৩।
বৃহষ্পতিবার দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে ৯০ রোগী। হাসপাতাল গুলিতে শিশু ওয়ার্ডের সক্ষমতার তিনগুন বেশি রোগী এবং রোগীদের সংগীয় লোকজনের ভীরে এরোগের সংক্রমনে ঝুঁকি এখন চরম উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। এছাড়া নমুন পরীক্ষাসহ প্রকৃত হাম রোগী সনাক্তের বিষয়টি এখনও পর্যন্ত একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই আছে।


