এনএনবি : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা।
তার কাজ নিয়ে হতাশা এবং যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের নথি সামলানোর ধরন নিয়ে দিন দিন বিরক্ত হয়ে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত করলেন।
বন্ডির জায়গায় এখন নিয়োগ করা হবে উপ অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ-কে,যিনি আগে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন। ব্ল্যাঞ্চ ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প জানান, বন্ডিকে এখন বেসরকারি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন চাকরি দেওয়া হবে। প্রশাসনে এতদিন বন্ডির কাজের জন্য ট্রাম্প তার প্রশংসা করেছেন। বন্ডিকে ‘দেশপ্রেমিক ও অনুগত বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে তাকে বরখাস্ত করার কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ জানাননি ট্রাম্প। রাজনৈতিক মাথাব্যথা ও সমালোচনা:
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পাম বন্ডি ট্রাম্পের কর্মসূচির একজন কট্টর সমর্থক ছিলেন। তদন্তের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউজ থেকে বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের স্বাধীন থাকার ঐতিহ্য ভেঙে ফেলার অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। তবে বন্ডির মেয়াদে সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল জেফরি এপস্টেইনের যৌন পাচার মামলার তদন্তের নথি প্রকাশ নিয়ে। ট্রাম্পের মিত্র ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা বন্ডির বিরুদ্ধে তথ্য ধামাচাপা দেওয়া বা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আনেন। বিষয়টি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তার পুরনো বন্ধুত্বের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসে। গত বছর বন্ডি এপস্টেইন মামলার একটি ‘ক্লায়েন্ট লিস্ট’ তার ডেস্কে থাকার কথা বলে জল্পনা উসকে দিলেও পরবর্তীতে তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখান। এর ফলে নভেম্বরে একটি দ্বিদলীয় আইন পাস হয়, যার অধীনে ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিপত্র প্রকাশ করতে বাধ্য হয় বিচার বিভাগ। এরপরও নথির অনেক অংশ মুছে ফেলা নিয়ে বিতর্ক থামেনি। আগামী ১৪ এপ্রিল এ বিষয়ে প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির সামনে বন্ডির সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। প্রশাসনিক রদবদল পাম বন্ডিকে সরিয়ে দেওয়া ট্রাম্পের বিচার বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দায়িত্ব পালনকালে বন্ডি বিচার বিভাগের প্রথাগত স্বাধীনতা ভেঙে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে কট্টর সমর্থক হিসেবে কাজ করেছেন। গত ৫ মার্চ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করার পর বন্ডি হলেন প্রশাসনের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা যাকে ট্রাম্প সরিয়ে দিলেন। বন্ডির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ট্রাম্পের অপছন্দের তদন্তে যুক্ত থাকা পেশাদার কৌসুলিদের সরিয়ে দিয়েছেন।
তবে বন্ডি বরাবরই দাবি করেছেন, তিনি বিচার বিভাগকে সহিংস অপরাধ দমনে মনোযোগী করতে এবং ট্রাম্প সমর্থকদের আস্থা ফেরাতে কাজ করছিলেন।


