পাবনা প্রতিনিধি ॥ অন্তরার খাতুন দুই বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন। মা রওশন আরা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের এবং ছোট ভাই সোহেল রানা রাজমিস্ত্রীর কাজ করে অন্তরার লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যান। সেই অন্তরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্ন করছেন এখন। অন্তরার বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর বড় ছয়ঘাটি গ্রামে।
রবিবার (২২ মার্চ) ডাক্তারকন্যা অন্তরার বিয়ে ঠিক হয় পার্শ্ববর্তী পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল মুন্সির ছোট ছেলে প্রকৌশলী জুলফিকার ইসলাম জিল্লুর রহমানের সঙ্গে।
শনিবার গায়েহলুদ সম্পন্ন হয় অন্তরার। বিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য সাজানো হয় বাড়ি। শনিবার বরপক্ষের লোকজন কনের বাড়ির গায়েহলুদ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মিষ্টিমুখ করেন। রবিবার গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের কথা ছিলো বর জুলফিকারের। সেই অনুষ্ঠানের পায়েস রান্না করার জন্য তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে দুধ আনতে দাশুড়িয়া থেকে নাটোর যাচ্ছিলেন। সকাল আটটায় নাটোর হাইওয়ের গড়মাটি কলোনি রোডে তাঁর প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাশে দাঁড়ানো ট্রাকে লেগে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ*ত্যু হয়। বরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই বাড়িতেই বিয়ের উৎসবে রূপান্তরিত হয় বিষাদে, শুরু হয় মাতম। বিয়ের জন্য সাজানো প্যান্ডেল ভেঙে নিচ্ছেন ডেকোরেটরের লোকজন।


