এনএনবি : ইরাক যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের এভিয়েশন খাতে, বিশেষ করে ঈদ কেন্দ্রিক ব্যবসায়। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদ মৌসুমে যাত্রী সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। এর ফলে এয়ারলাইন্সগুলোও চাপের মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশে ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এভিয়েশন খাতে বিশেষ ব্যস্ততা তৈরি হয়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই টিকিট বুকিং কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঘরমুখো মানুষ, বিদেশফেরত প্রবাসী এবং পর্যটকরা বিমানবন্দর ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে সরগরম করে তোলে। রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবগামী ওমরা হজের যাত্রীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি বদলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে পর্যটক ও ওমরা হজের যাত্রী সংখ্যা কমেছে। এক যাত্রী বলেন, যাওয়াটা এখন আতঙ্কের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আমাদের জন্য বিভ্রান্তি এবং উৎকণ্ঠার কারণ। ট্যুর অপারেটররা জানিয়েছেন, চলতি বছর যাত্রী সংখ্যা সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। আটাবের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ বলেন, যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গেছে। মাত্র ৩০ শতাংশ যাত্রী যাচ্ছেন, তাও সামনে কী হয় বলা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে চাপের মুখে পড়েছে এয়ারলাইন্সগুলোও। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সাধারণত এই সময়ে সব ফ্লাইটে ভিড় থাকতো, কিন্তু এবারের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক সেবা ব্যাহত হয়েছে। আর্থিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবুও মানবিক দায়বদ্ধতার দিক থেকে চেষ্টা করছি যাত্রীদের সেবা দিতে।
এদিকে, একের পর এক ফ্লাইট বাতিলের কারণে আগামীতে এয়ারলাইন্সের টিকিটের দাম বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এয়ারলাইনগুলোর বিমানবীমার (ইনস্যুরেন্স) খরচ এরমধ্যেই ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো বাড়ানো শুরু করেছে। ফ্লাইট বাতিলের ফলে এই অতিরিক্ত খরচ সামলাতে হলে স্বাভাবিকভাবেই টিকিটের দাম বাড়বে। কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা কম।


