এনএনবি : পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সংঘাত চলছেই। গোলাগুলি চলছে দু’পক্ষের মধ্যে। মঙ্গলবার এই সংঘাত ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে দুইদেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, দুইপক্ষের লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ৪২ জন আফগান নাগরিক নিহত হয়েছে। পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে বিবাদ চলে আসছে আগে থেকেই। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটি থেকে জঙ্গিরা পাকিস্তানে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে। ফলে আফগানিস্তানে থাকা জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংসে লড়াই শুরু করেছে পাকিস্তান। গত বৃহস্পতিবার থেকে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। রাজধানী কাবুল-সহ আফাগনিস্তানের বেশ কয়েকটি শহরে হামলা চালানোর কথা জানায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদ দাবি করেছিল, তারা আফগানিস্তানে থাকা জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে আফগানস্তানের তালেবান সরকার দাবি করে যে, পাকিস্তানের সেনারা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এতে অনেক সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার জানান, কাবুলের উত্তরে অবস্থিত বাগরাম বিমানঘাঁটিতে সফল বিমান হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে আতাউল্লা বলেন, “আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সীমান্তে সন্ত্রাসীরা গোলাবারুদ মজুত করছে। সেই খবরের ভিত্তিতেই হামলা চালানো হয়েছে।” ওদিকে, আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তালিবান বাহিনী কান্দাহার অঞ্চলে একটি পাকিস্তানি পোস্ট দখল করেছে। পাকিস্তানের পাল্টা দাবি, তারা জালালাবাদে একটি অস্ত্রভান্ডার এবং নাঙ্গারহার প্রদেশের একটি সামরিকঘাঁটি ধ্বংস করেছে। তবে কোনও পক্ষই তাদের দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ দেয়নি। রয়টার্স নিরপেক্ষভাবে দুপক্ষের দাবি যাচাই করতে পারেনি। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের অ্যাসিসটেন্স মিশন দুই দেশের মধ্যকার লড়াইয়ে হতাহতের প্রাথমিক পরিসংখ্যান জানিয়ে বলেছে, আন্তঃসীমান্ত সংঘাতের মধ্যে পড়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১০৪ জন আহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী তারার এ পরিসংখ্যানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, জঙ্গিরা সাধারণ মানুষের পোশাক পরে থাকে। আর কাবুলে অবস্থিত জাতিসংঘ সংস্থা তথ্যের জন্য তালেবান কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে।


