বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত
/ ১১৬ দেখা হয়েছে
বার : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ন

এনএনবি : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় নিহত হয়েছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। রোববার সকালে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করে জানায়, শনিবার তার কম্পাউন্ডে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনির মৃত্যু হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, শনিবার খামেনির কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম বলেছে, “ইরানি জনগণের কাছে ঘোষণা করা হচ্ছে যে তাদের মহামান্য আয়াতুল্লাহ ইমাম সৈয়দ আলি খামেনি, ইসলামি বিপ্লবের নেতা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আমেরিকা ও জায়োনিস্ট শাসনের চালানো যৌথ হামলায় শহীদ হয়েছেন।” ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডে ওই হামলায় খামেনির সঙ্গে তার কন্যা, কন্যার স্বামী ও নাতি নিহত হয়েছেন। এর আগে ট্রাম্প জানান, খামেনি ও অন্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা ‘যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম এড়াতে পারেননি’। ১৯৮৯ সালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনি ইরানের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ইরানের ক্যারিশম্যাটিক নেতা খোমেনি এর এক দশক আগে ১৯৭৯ সালে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আল জাজিরা জানিয়েছে, খোমেনি ছিলেন ইরানের বিপ্লবের পেছনে আদর্শিক শক্তি। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানের দীর্ঘদিনের পাহলভি রাজতন্ত্রের পতন হয়। খোমেনির পরে নেতৃত্বে আসা খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীগুলো গড়ে তোলেন। এই বাহিনীগুলো শত্রুদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠন করে এবং নিজ ভূখ-ের বাইরেও তাদের প্রভাব বিস্তার করে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে ১৯৮০-র দশকে প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গে প্রাণঘাতী যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির নেতৃত্ব দেন।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, তীব্র, ক্ষয়িষ্ণু লড়াইয়ের মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো ইরাকের নেতা সাদ্দাম হুসেইনকে সমর্থন দেওয়ায় অনেক ইরানির মধ্যে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তীব্রতর হয়েছিল আর তা পশ্চিমাদের বিষয়ে খামেনির অবিশ্বাসকে গভীর করে তুলেছিল, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে। এই মনোভাব তার ৩৭ বছরের শাসনের মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং এই ধারণাকে দৃঢ় করেছে যে ইরানকে বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ হুমকির বিরুদ্ধে নিরন্তর প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকতে হবে।ইরান সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ ও ‘ইরান গ্রান্ড স্ট্র্যাটেজি: অ্যা পলিটিক্যাল হিস্টোরি’ বইয়ের লেখক ওয়ালি নাসর বলেন, “মানুষ (ইরানকে) একটি ধর্মতন্ত্র মনে করে, কারণ তিনি (খামেনি) পাগড়ি পড়েন আর রাষ্ট্রটির ভাষা ধর্মের ভাষা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তিনি যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট ছিলেন আর যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এই ধারণা নিয়ে যে ইরান দুর্বল আর এর নিরাপত্তা প্রয়োজন। “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন; আর বিপ্লব, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র আর জাতীয়তাবাদ পৃথক না।” আর তাই তাদের রক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করতেন খামেনি। এই দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক আধাসামরিক বাহিনী থেকে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। এই বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের বিস্তৃত প্রভাবের কেন্দ্রীয় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। শাস্তিমূলক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে খামেনি স্বনির্ভরতা বাড়াতে একটি ‘প্রতিরোধ অর্থনীতির’ পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে তিনি দৃঢ় সংশয় বজায় রেখেছিলেন এবং যারা যুক্তি দিয়েছিলেন যে প্রতিরক্ষার ওপর তার মনোযোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলিকে বাধাগ্রস্ত করছে, সেই সব সমালোচকদের কঠোর জবাব দিয়েছিলেন।
কিন্তু তার শাসন ২০০৯ সালে গুরুতর পরীক্ষার মুখে পড়ে যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমে আসে। নির্মমভাবে ওই প্রতিবাদ দমন করা হয়। এরপর ২০২২ সালে নারী অধিকার নিয়ে আবার ইরানজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা দেয়। এবারও কঠোরভাবে প্রতিবাদ দমন করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও অস্থিরতা শুরু হলে সম্ভবত খামেনি তার শাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। বহু প্রতিবাদকারী সরাসরি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের উচ্ছেদের আহ্বান জানাতে শুরু করে। এই প্রতিবাদ দমন করতে গিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে সবচেয়ে হিংসাত্মক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। সমালোচকদের দৃষ্টিতে, তিনি দেশটির তরুণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অনেক বাইরে ছিলেন আর ওই তরুণরা বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চিরকালের ছায়া যুদ্ধের চেয়ে সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নতির প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। নাসর বলেন, “জাতীয় স্বাধীনতার উপর এই মাত্রার জোরের জন্য ইরানিরা অনেক বেশি মূল্য দিয়েছে- এ প্রক্রিয়ায় তিনি ইরানি জনগণকে হারিয়েছেন কারণ তারা আর এই স্বাধীনতার জীবনদর্শন ও নৈতিক দায়িত্বকে বিশ্বাস করেনি।” খামেনি ১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবা ছিলেন একজন প্রখ্যাত মুসলিম নেতা যিনি প্রতিবেশী ইরাক থেকে আসা আজারবাইজানি জাতির মানুষ ছিলেন। মার প্রেরণায় খামেনির মধ্যে সাহিত্য ও কবিতার গভীর আগ্রহ তৈরি হয় আর পরবর্তীতে পাহলভি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৫৩ সালে যুক্তরাজ্যের এমআইসিক্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ গোয়েন্দা সংস্থার সাজানো ছকে হওয়া অভ্যুত্থানে ওই সময় ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ক্ষমতাচ্যুত হন। মোসাদ্দেক ইরানের তেল শিল্পকে জাতীয়করণ করার উদ্যোগ নিয়ে এ পরিস্থিতির শিকার হন। তার পরিবর্তে আবার সর্বময় ক্ষমতা নিয়ে ইরানের ক্ষমতায় বসে পাহলভি পরিবার।
রাজনৈতিক আন্দোলনকারী হিসেবে খামেনিকে বারবার গ্রেপ্তার করেছিল রেজা শাহ পাহলভির গোপন পুলিশ ‘সাভাক’। গ্রেপ্তারের পর তাকে ইরানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত শহর ইরানশাহরে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৮ সালে ফিরে তিনি পাহলভি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেন আর এই প্রতিবাদের পথ ধরে ইসলামিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রেজা শাহর পতন হয়। ইসলামি বিপ্লবের পর খামেনি নতুন ইরানের কর্তৃপক্ষের একজন প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ১৯৮০ সালে তিনি অল্প সময়ের জন্য ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নেতৃত্ব দেন। অনলবর্ষী বক্তা খামেনি তেহরানের জুমার নামাজের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রভাবশালী পদটিতেও ছিলেন। ১৯৮১ সালে তিনি মোজাহেদিন-ই-খালক (এমইকে) নামের একটি সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর হত্যা চেষ্টা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান, কিন্তু তার ডান হাত চিরকালের মতো অকেজো হয়ে যায়। একই বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে দেশটির প্রথম মৌলভী প্রেসিডেন্ট হন। এরপর ১৯৮৯ সালে খোমেনেরি মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে পরবর্তী ৩৭ বছর ধরে দেশটিকে নেতৃত্ব দেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ