কৃষি প্রতিবেদক ॥ সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায়ের চতুর্থ পরিচ্ছেদের ‘আষাঢ়ের এক রাত’ গল্পে টেংরা মাছের টেংরা আছে(Tengra) Siluriformes বর্গের Bagridae গোত্রের Mystus গণের স্বাদু পানির ছোট আকৃতির মাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Mystus tengara. এই মাছের মাথায় দুই জোড়া গোঁফ থাকে। দেহ প্রায় গোলাকার, বেশ পিচ্ছিল ও কোনো আঁষ থাকে না। আত্মরক্ষার জন্য ফুলকার দুই পাশে দুটি এবং পিঠে একটি সরু কাঁটা থাকে।পিঠের ওপরের অংশ কালচে ও পেটের দিকটা সাদা হয়ে থাকে। টেংরা আমাদের দেশের স্থানীয় মাছ। সাধারণত নদী, খাল ও বিলে এই মাছ পাওয়া যায়। টেংরা পুকুরেও চাষ করা সম্ভব। টেংরা চাষের জন্য নির্বাচিত পুকুরের আয়তন ৮ থেকে ১০ শতাংশ এবং গড় গভীরতা ১.০ মিটার হলে ভালো হয়। পাশাপাশি পুকুর নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখতে হবে পুকুরটি যেন খোলামেলা রোদ্রোজ্জ্বল জায়গায় হয়। এ মাছের প্রজননকাল এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত। এ সময় আট থেকে ১০ গ্রাম ওজনের টেংরা সংগ্রহ করে প্রস্তুতকৃত পুকুরে মজুদ করে কৃত্রিম প্রজননের জন্য ব্রুড তৈরি করতে হয়। এরপর হরমোন ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে ডিম থেকে রেণু পোনা তৈরি করে ১০ দিনের মধ্যে পুকুরে ছাড়তে হয়। টেংরা মাছ তিন মাস বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় দেশি টেংরা মাছ খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিসমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম টেংরা মাছে ১০৬ ক্যালরি শক্তি, ১৯.২ গ্রাম প্রোটিন, ৬.৫ গ্রাম চর্বি, ২৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। কাঁটা কম থাকায় এটি সবার প্রিয়।এই মাছের মধ্যে যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আছে তা মস্তিষ্কের বিকাশে অত্যন্ত কার্যকর। এই উপাদান ব্রেনের কোষ সতেজ রাখে এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়। তাই শিশুদের এই মাছ খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়। টেংরা মাছ খেলে হার্ট ভালো থাকে। কারণ এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে যে ফ্যাট থাকে সেটা সহজে শরীরে দ্রবীভূত হয়ে যায়। এই মাছ খেলে শরীরে কোলাজেন বৃদ্ধি পায়। যেহেতু কোলাজেন ত্বক ও চুল দুটির জন্যই ভালো সেহেতু টেংরা মাছ খেলে এই দুটিই ভালো থাকে। এই মাছের পুষ্টি উপাদান চোখ ভালো রাখে, রেটিনা সুস্থ রাখে এবং ড্রাই আইজ বা চোখের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া টেংরা মাছে এমন অনেক উপাদান আছে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। প্রতিদিন এই মাছ খেলে আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের মতো রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে না।


