বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব কোন দিকে যাবে? অধ্যাপক জিয়াংয়ের ৫ ভবিষ্যদ্বাণী
/ ৬১ দেখা হয়েছে
বার : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ন

এনএনবি : আগামী পাঁচ থেকে ২০ বছরের মধ্যে পৃথিবীতে কী কী ঘটবে, সে সম্পর্কে পাঁচটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ইউটিউব চ্যানেল ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রির’ সঞ্চালক অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াং। তিনি বলেছেন, “আমি ধারণা করি, এসব ঘটনা আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে, কিংবা ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ঘটবে। সময়টা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না, কিন্তু আমি মনে করি এসব ঘটবেই।” এ বছর ২৯ জানুয়ারি নিজের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে অধ্যাপক জিয়াং বলেন, প্রথম যে বিষয়টি পশ্চিমা বিশ্বে ঘটবে, তা হল গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার অবনতি। “মনে রাখবেন, সমাজের শুরুতে একটি ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক, উন্মুক্ত এবং মেধাভিত্তিক থাকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও আমলাতান্ত্রিক হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী হয়ে যায়।
“ফলে আমরা দেখব, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে। এসব দেশে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ভাঙন দেখা যাবে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আমরা এর কিছু লক্ষণ দেখছি, যেখানে ট্রাম্প (প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প) বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় ক্রমেই বেশি করে সামরিক শক্তি ব্যবহার করছেন।” এই চীনা অধ্যাপক বলেন, “এটাই আমার প্রথম পূর্বাভাস, এবং এটি পুরো পশ্চিমা বিশ্বেই ঘটবে।” তার দ্বিতীয় ভবিষ্যদ্বাণী হল, অর্থনৈতিক পতন। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “যখন মানুষের কথা বলার অধিকার কমতে থাকে, তখন তারা ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা কম অনুভব করে এবং কাজ করার আগ্রহও কমে যায়। এর ফল হয় অর্থনৈতিক পতন। “মানুষ তখন আর ওই ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রাখে না, এবং শাসন ব্যবস্থা সংকটে পড়ে। এর ফল হিসেবে বাড়বে অভিবাসন। তখন সরকার বলতে পারেÑ ‘মানুষ যদি কাজ করতে না চায়, তাহলে থাক; আমরা কাজ করাতে অভিবাসীদের নিয়ে আসব।’ অর্থাৎ জনসংখ্যা বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।” জুয়েকিন জিয়াং বলেন, “মানুষ তা মেনে নিয়ে বসে থাকবে না। এতে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হবে। মানুষ রাস্তায় রাস্তায় একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়বে। তখন সরকার ভাবতে পারে—‘যদি এভাবে চলতে থাকে, শেষ পর্যন্ত তারা আমাদের দিকেই ফিরে আসবে।’ তাই তাদের বিদেশে অর্থহীন যুদ্ধে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এভাবে শুরু হবে অর্থহীন বিদেশি যুদ্ধ।” তিনি বলেন, “আগামী ৫, ১০ বা ২০ বছরের জন্য পৃথিবী সম্পর্কে এটাই আমার পাঁচটি পূর্বাভাস। ইউরোপ ও আমেরিকায় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র কমে যাবে; অর্থনৈতিক পতন হবে; অভিবাসন বাড়বে; অভ্যন্তরীণ সংঘাত দেখা দেবে; এবং শেষ পর্যন্ত অর্থহীন বিদেশি যুদ্ধ শুরু হবে। “আমি বলছি না যে এগুলো নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতায় ঘটবে। আমি শুধু বলছিÑ এই পাঁচটি বিষয়ই দেখা যাবে, তবে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বা ভিন্ন ক্রমে ঘটতে পারে।” ভিডিওতে একজন প্রশ্ন করেন, মানুষের মনোযোগ সরিয়ে নিতে সরকার কি কখনও যুদ্ধকে ব্যবহার করতে পারে?
জবাবে অধ্যাপক জিয়াং বলেন, “হ্যাঁ, খুব ভালো প্রশ্ন। আসলে যুদ্ধের একটি কাজই হল মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাখা। কারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না করতে পারলে তারা বিদ্রোহ করতে পারে। তাই তাদের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, নইলে ফরাসি বিপ্লবের মত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। “তখন বিকল্প থাকে দুটিÑ যুদ্ধ অথবা বিপ্লব। অনেকের কাছে যুদ্ধই তুলনামূলকভাবে সহজ বিকল্প। এ কারণেই আমরা এমন একটি বিশ্বের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে যুদ্ধ বাড়বে।” তিনি বলেন, “আমি আবারও বলছিÑ আমি নিশ্চিত নই যে আমি ঠিক। আমি কেবল একটি তত্ত্ব বা মডেল উপস্থাপন করছি, যার মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু অনুমান করতে পারি। যদি এসব পূর্বাভাস সত্যি হয়, তাহলে বোঝা যাবে আমাদের মডেলের কিছুটা হলেও যথার্থতা আছে। অবশ্যই তখন সেটিকে আরও উন্নত করতে হবে। “কিন্তু ধরুন, আগামীকাল ট্রাম্প, পুতিন ও শি যদি একসঙ্গে বসে বলেনÑ ‘চলুন আমরা বন্ধু হয়ে যাই।’ তাহলে আমি ভুল প্রমাণিত হব।”
এই বিশ্ব কীভাবে কাজ করে, মানুষ যদি তা বুঝতে পারে, তাহলে একদিন আরও ন্যায়ভিত্তিক একটি বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করেন জুয়েকিন জিয়াং।
কে এই জিয়াং জুয়েকিন? বেইজিংয়ে দর্শন ও ইতিহাস পড়ান এই অধ্যাপক। ইয়েল কলেজ থেকে স্নাতক করা এই শিক্ষক কর্মজীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন চীনে শিক্ষা সংস্কার এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়নের কাজে। এর বাইরে জিয়াং তার ইউটিউব প্রজেক্ট ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রির’ মাধ্যমে অনলাইনে বড় একটি অনুসারী তৈরি করেছেন।
নিজের লেকচারগুলোতে তিনি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ভূ-রাজনৈতিক প্রণোদনা এবং গেম থিওরি বিশ্লেষণের মাধ্যমে বৈশ্বিক ঘটনাবলীর আভাস দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তার পদ্ধতিটি মূলত আইজ্যাক আসিমভের ‘ফাউন্ডেশন’ উপন্যাসের কাল্পনিক ‘সাইকোহিস্ট্রি’ দ্বারা অনুপ্রাণিত, যেখানে দীর্ঘমেয়াদী ঐতিহাসিক ধরন ব্যবহার করে ভবিষ্যতের আভাস দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মে মাসে রেকর্ড করা এক লেকচারে তিনি তিনটি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, যার দুটি ফলে যাওয়ায় সম্প্রতি তৃতীয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তার ভবিষ্যদ্বাণীর প্রথমটি ছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ক্ষমতায় ফিরবেন; দ্বিতীয়টি ছিল তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবেন। এই অধ্যাপকের তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণী হলো, চলমান যুদ্ধে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হেরে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ