এনএনবি : উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালানোর জন্য শনিবারই ‘ক্ষমা’ চেয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কিন্তু তারপরই তার সেই সংহতিমূলক বক্তব্য থেকে তিনি সরে এসে ফের কড়া কথা বলেছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর যে কোনও হামলার জবাব তেহরান দেবে, বলেছেন তিনি। রোববার এক ভিডিও বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বলেন, “শত্রুপক্ষ আমার কথায় ভুল ধারণা করেছে। আমরা যখন আক্রান্ত হই তখন আমাদের পাল্টা জবাব দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।
“তারা আমাদের ওপর যত বেশি চাপ বাড়াবে, স্বাভাকিভাবেই আমাদের জবাবও ততটাই কঠোর হবে। আমাদের ইরান, আমাদের দেশ সহজে উৎপীড়ন, জুলুম কিংবা আগ্রাসনের কাছে মাথা নত করবে না, তারা কখনও তা করেওনি।” এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কেবল তাই নয়, সামরিক সংঘাতের শুরু থেকে উপসাগরীয় যে সব দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে, তার জন্য ক্ষমাও চেয়ে নেন তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, “আমি ব্যক্তিগত ভাবে সেই সব প্রতিবেশী দেশের কাছে ক্ষমা চাইছি, যারা ইরানের প্রতিঘাতের শিকার হয়েছে।” আশ্বাস দিয়ে তিনি এও বলেছিলেন যে, ইরানের অন্তর্বতী নেতাদের পরিষদ প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানো বন্ধ রাখতে রাজি হয়েছে, যতক্ষণ না তারা (উপসাগরীয় দেশগুলো) ইরানে হামলার জন্য তাদের ভূখন্ড ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে। কিন্তু পেজেশকিয়ানের এই আশ্বাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তার ক্ষমা চাওয়া এবং আশ্বাসের পরও উপসাগরীয় দেশগুলিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। বাহরাইন, কুয়েত, আরব আমিরাত ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আরও দেশ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে। দুবাইয়ের জনপ্রিয় মারিনা এলাকায় একটি আবাসিক টাওয়ার দাউ দাউ করে আগুনে জ্বলছে। রোববার সকালে ইরান কুয়েতের বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে হামলা করেছে। বাহরাইনের ডিস্যালিনেশন প্লান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সৌদি আরব এবং ইরাকের রাজধানী বাগদাদেও হামলা চলছে। সৌাদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির দিকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে নেমে শুরু থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। গতদিন সন্ধ্যায় ইরান তাদের দৃঢ় অবস্থান নিয়ে সামনে এসেছে। ইরানের বিচারবিভাগীয় প্রধান গোলামহুসেইন মোহসেনি ইজেই বলেছেন, ইরানে হামলা চালানোর জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই ইরানের জবাব জারি থাকবে। এই ঘোষণার পরই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) বিবৃতি দিয়ে জানায়, আবু ধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের আল ধাফরা সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। হামলা চালানো হয়েছে দুবাইয়ে। তাছাড়াও, বাহরাইন এবং দোহাতেও হামলা চালাচ্ছে তারা। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ‘ক্ষমা’ চাওয়ার বিষয়টি ভাল ভাবে নিতে পারেননি তার দেশেরই প্রশাসনিক কর্তা, কট্টরপন্থি এবং রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)।
দেশের ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ায় শেষমেশ সুর পাল্টান প্রেসিডেন্ট। উল্টোবাঁক (ইউটার্ন) নিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরানে হামলা চালালে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পেজেশকিয়ান ‘ক্ষমা’ চাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও দাবি করেছিলেন, ইরান আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি ইরানে আরও বড় ধরনের হামলার হুমকিও দেন। তারপরই ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আত্মসমর্পণের কোনও প্রশ্ন নেই। আঘাত এলে পাল্টা জবাব দেবে ইরান।


