বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
নির্মাণকাজের মাঝেই নিভে গেল তরুণ প্রাণ আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু
/ ৮৩ দেখা হয়েছে
বার : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ন

মীর ফাহিম ফয়সাল, আলমডাঙ্গা থেকে ॥ জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের মতোই কাজে বেরিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী তরুণ নির্মাণশ্রমিক মুস্তাকিম। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে কাজ করছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—কাজ শেষ করে আর ঘরে ফেরা হলো না। মুহূর্তের অসাবধানতায় বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে নিভে গেল একটি সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণ। শুক্রবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামে ঘটে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা।শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে উপজেলার হাকিমপুর গ্রামে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান মুস্তাকিম (২০)। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে এবং পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী (নির্মাণশ্রমিক) ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তিওরবিলা গ্রামের ফুরকানের ছেলে সোহাগ মিয়ার নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সকাল থেকেই একদল শ্রমিক সেখানে কর্মব্যস্ত ছিলেন। কাজের একপর্যায়ে মুস্তাকিম অসাবধানতাবশত ভবনের পাশ দিয়ে অতিক্রম করা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে আসেন। মুহূর্তেই তিনি তীব্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছটফট করতে করতে অচেতন হয়ে পড়েন।সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে নিহতের মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে আকস্মিক এই মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই হাকিমপুর গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। হাসপাতাল ও নিহতের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীও গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নির্মাণকাজের সময় বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। একটি অসাবধানতাই যে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে চিরতরে নিভিয়ে দিতে পারে—মুস্তাকিমের মৃত্যু তারই বেদনাদায়ক স্মারক হয়ে রইল।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ