ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির মধ্যে বিপ্লবের শক্তি অন্তর্নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো (যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দল) বিপ্লবের সন্তান। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপির জন্ম। মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদলের সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত জাকির হোসেন নান্নুর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে রিজভী এসব কথা বলেন। হতাশা নয়, কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী হয়ে দলের আদর্শকে বুকে ধারণ করে নেতা-কর্মীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের অবসান এবং শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া প্রমাণ করে যে, কারও শ্রম বা আত্মদান কখনো বৃথা যায় না। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ডের পরিসর বাড়াচ্ছে এবং কৃষক কার্ড দিচ্ছে। এক-দুই বছর পর এসবের সুফল যখন মানুষের হাতে পৌঁছাবে, তখন জাকির হোসেন নান্নুর মতো মানুষের আত্মদান সার্থক হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর বাড়িঘর ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া প্রবাসে নানা নিপীড়ন সহ্য করে দলের চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়াকে একটি ‘বড় ও অস্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে নেতা-কর্মীদের তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানান রিজভী। বিগত প্রহসনের ‘আমি ও ডামি’ নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া হতাশা কাটিয়ে এই বিজয়কে বড় অর্জন হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। বক্তব্যে ৪৫ বছর পর শহীদ জিয়াউর রহমানের হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে বিচারহীনতা ও ষড়যন্ত্রের কড়া সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই ৪৫ বছর সে কোথায় ছিল? আন্তর্জাতিক বা দেশের ভেতরে কারা তাকে আশ্রয় দিয়েছে?’ একই সঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সে সময় তিনি অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তাঁকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁকে কারা ব্যবহার করেছিল, তা আজ আলোচনার সময় এসেছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে মুগ্ধ, ওয়াসিফ, আবু সাঈদদের ওপর পুলিশের সঙ্গে মিলে গুলি চালিয়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়া হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁদের কারা আশ্রয় দিয়েছে, সে বিষয়েও জবাব চাওয়ার দাবি করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ আরও অনেকে।


