কাগজ প্রতিবেদক ধ ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সাপের কামড়ে আহত হওয়া সেই সাপুড়িয়া ইমরান হোসেন (৩৮) চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। লোক লজ্জায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না করেই হাসপাতাল ছেড়েছেন তিনি। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ত্যাগ করেন। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইমরান হোসেন বলেন,আমি এখন সুস্থ আছি। চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে এসেছি। তবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না নিয়ে চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা এসে রাত-দিন একই প্রশ্ন করেন- ওঝা হয়ে সাপের কামড় খেয়ে কেন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কেউ কেউ আবার আমাকে ভণ্ড প্রমাণের চেষ্টাও করছে। তাই লোক-লজ্জায় হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে এসেছি। এখন বাড়তি থেকেই বাকি চিকিৎসা শেষ করবো।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, শনিবার রাতেই ইমরান কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে ছুটির আবেদন করেছিলেন। রোববার আবারও ছাড়পত্র চাইলে প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে হাসপাতাল ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, একজন সাপুড়িয়া হয়ে সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা তার কাছে লজ্জাজনক মনে হচ্ছে। এ সময় সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে ডা. ইকবাল হাসান বলেন, সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় একটি বসতবাড়ি থেকে গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হন ইমরান হোসেন। আহত ইমরান হোসেন ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্থান পাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে। নিজেকে সাপুড়িয়া ও ওঝা পরিচয় দেওয়া ইমরান বিভিন্ন স্থান থেকে সাপ ধরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে স্থানীয় আমিরুল ইসলামের বাড়িতে সাপ উদ্ধারের জন্য যান ইমরান। বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে গর্ত থেকে একটি গোখরা সাপ বের করার পর সেটিকে ধরার চেষ্টা করেন।
তার হাঁটুর ওপরে কামড় দেয়। পরে স্থানীয় দুই যুবক দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওঝা ইমরান হোসেন বলেন, ১৬ জুলাই আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট সাপের কামড়ে মারা যান। পেশায় রাজমিস্ত্রি ২২ বছর বয়সী সম্রাটের বিয়ে হয়েছিল দেড় বছর আগে এবং তার স্ত্রী বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সম্রাটের মৃত্যুর পর ১৭ জুলাই বাড়িটিতে আবারও সাপ দেখা গেলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে তাকে খবর দেই। তিনি বলেন, বাড়ির উঠান থেকে প্রথমে তিনটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করি। পরে গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ টেনে বের করার প্রায় দেড় মিনিটের মাথায় অসাবধানতাবশত সেটি তার হাঁটুর ওপরে কামড় দেয়।


