বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
জুলাই গ্রাফিতি দিয়ে রেপ্লিকা নির্মাণের পরিকল্পনা ইবি প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের মতানৈক্য
/ ২৩ দেখা হয়েছে
বার : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ন

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে আঁকা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি গ্রাফিতিগুলো সংরক্ষণ করে সেগুলোর আদলে একটি স্থায়ী রেপ্লিকা নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে গতকাল রোববার ও সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।
জানা গেছে, আগামী ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে প্রধান ফটকে থাকা জুলাই স্মৃতি গ্রাফিতিগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে ফটকে অঙ্কিত গ্রাফিতিগুলো ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি স্মৃতিগুলোকে স্থায়ী রূপ দিতে ফটকের নকশা অনুসরণ করে একটি রেপ্লিকা নির্মাণ করা হবে। সেখানে বিদ্যমান গ্রাফিতিগুলো পুনরায় অঙ্কন করা হবে। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্র ইউনিয়ন শর্ত সাপেক্ষে বর্তমান গ্রাফিতি অপসারণ করে জুলাই স্মৃতি রেপ্লিকায় সংরক্ষণের পক্ষে মত দেয়। অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ফটকের জুলাই স্মৃতিচিহ্ন অক্ষত রেখে সংরক্ষণের দাবি জানায়।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, ‘আমাদের এই বৈঠকে ডাকা হয়নি। পরে আজ বেলা ৩টায় আমরা তাদের সঙ্গে দেখা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলোও সাধারণ শিক্ষার্থীরাই এঁকেছে। তাই এগুলো নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত নিতে হবে। আমরা একক কোনো মতামত দিতে রাজি নই। শিক্ষার্থীরা যে মতামত দেবে, সেটাই আমাদের মতামত।’
শাখা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, ‘আমাদের অবস্থান হলো, জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ করে প্রশাসন যদি প্রধান ফটক সুশোভিত করে, তাহলে আমরা তা সমর্থন করব। তবে জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা বা অবমাননা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা মেনে নেব না। প্রশাসনও জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণের আশ্বাস দিয়েছে।’
শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, ‘অন্তত জুলাই মাসে কোনোভাবেই মেইন গেটের জুলাইয়ের লিখন বা গ্রাফিতি নিয়ে কোনো কাজ করা যাবে না। প্রশাসন থেকে বর্তমান গেটের পরিবর্তে জুলাইয়ের সময়কার মেইন গেটের একটি রেপ্লিকা বা সদৃশ কাঠামো তৈরি করতে চায়। আমরা বলছি, যদি একান্তই এমন পরিকল্পনা থাকে, তাহলে আগে সেটি বাস্তবায়ন করে দেখাক। এরপর বাকি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে।’
শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রধান ফটক নতুন করে রং করা যেতে পারে। তার আগে জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। অথবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য উপায়ে আগে স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করতে হবে, এরপরই গ্রাফিতি অপসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত এই জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচিহ্ন ও দেয়ালচিত্র মুছে ফেলার পক্ষে আমরা কোনোভাবেই মত দিতে পারি না। আমরা প্রশাসনকে প্রশ্ন করেছি, যে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে আমরা গর্ব করি, ঠিক সেই জুলাই মাসেই তা মুছে ফেলার তোড়জোড় কেন? কিন্তু প্রশাসন আমাদের এই যৌক্তিক প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একতরফাভাবে বলা হয়, “সিদ্ধান্ত এটাই যে আমরা গেট কালার (রং) করছি।” এর প্রতিবাদে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সভা বর্জন করি।’
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রধান ফটকের বর্তমান লিখনগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে এরপর রং করা যেতে পারে। যেহেতু মন্ত্রী আসবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ফটক রং করা হলে জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো বড় আকারে প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করতে হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার কোনো পরিকল্পনা হাতে নিইনি; বরং প্রধান ফটকের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের মাধ্যমে প্রধান ফটকে অঙ্কিত জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করা হবে; পাশাপাশি এগুলোকে স্থায়ী রূপ দিতে বর্তমান প্রধান ফটকের আদলে আরেকটি ফটক বা রেপ্লিকা নির্মাণ করা হবে, যেখানে জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো সংরক্ষিত থাকবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ