এনএনবি : দেশের ১৬টি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি এবার ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় যা প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা বেশি। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক খাতের এমন পরিস্থিতি দেশের ক্রেডিট রেটিংয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং বিদেশি ঋণ বা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বারবার পুনঃতফসিল বা কুঋণের সুবিধা না দিয়ে তাদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। প্রভিশন ঘাটতি বলতে বোঝায়, সম্ভাব্য খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণ করতে না পারা। এর ফলে নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা কমে যায়, মূলধনের ওপর চাপ বাড়ে এবং মুনাফাও কমে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ১৮টি ব্যাংকের মোট প্রভিশন ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। আর ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ১৬টি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে আমানতকারীদের আস্থা কমবে, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়বে এবং পুরো ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিংয়েও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার আন্তর্জাতিক মানদ-ের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণও বেড়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের ক্রেডিট রেটিংয়ের ওপর পড়ছে। এতে বৈদেশিক ঋণ বা সহায়তা নিতে সরকারের ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, ঝুঁকিভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং প্রয়োজনে মূলধন পুনঃসংস্থানই প্রভিশন ঘাটতি কমানোর প্রধান উপায়। বিআইবিএমের অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবিব বলেন, এই বিপুল প্রভিশন ঘাটতির মূল কারণ খেলাপি ঋণ। সাধারণ ঋণঝুঁকি ও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিকে একভাবে দেখা উচিত নয়। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে শুধু ক্রেডিট রিস্ক নয়, অপারেশনাল রিস্কের আওতায় এনে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ঘাটতিতে থাকা ১৬টি ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় ১০টি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি আরও বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতিতে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক। এছাড়া এক্সিম ব্যাংক ছাড়া একীভূতকরণ (মার্জার) প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা বাকি চারটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ও দুর্বল মানের সম্পদের বিপরীতে অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
একই অবস্থায় রয়েছে ইসলামী ব্যাংকও। এছাড়া প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইউসিবি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং আইএফআইসি ব্যাংকেও প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে।


