বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
বছরে ৯ মাস পানির নিচে কুমারখালী পৌর এলাকার দুর্গাপুরবাসী বর্ষায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্বিসহ অবস্থা
/ ২৪ দেখা হয়েছে
বার : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ন

কাগজ প্রতিবেদক ॥ এমনিতেই বছরে ৬ থেকে ৯ মাস থাকতে হয় পানির নিচে। তার উপর এখন বর্ষাকাল। এবার বৃষ্টিপাতের পরিমানও বেশি। এমন বর্ষায় কুষ্টিয়া কুমারখালী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড দুর্গাপুর এলাকাবাসীর জীবনে নেমে এসেছে দুর্বিসহ অবস্থা। নেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। সামন্য বৃষ্টি হলেই জমে থাকে পানি। ভারী বৃষ্টিতে শোবার ঘর, রান্নাঘর, টয়লেট—সবখানেই উঠে যায় পানি। এসব পানি কোথাও ছয় মাস, আবার কোথাও থাকে ৯ মাস। এতে চরম বিপাকে পড়েছে কুষ্টিয়ার প্রথম শ্রেণির কুমারখালী পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড দুর্গাপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার। বাসিন্দাদের ভাষ্য, সময়মতো পৌর কর পরিশোধ করা হয়। তবে গত ২০ বছরেরও পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। বছরের অন্তত ৬-৯ মাস হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। পানিবাহিত রোগে ভুগছেন অনেকেই। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। সরেজমিন দেখা যায় উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে দিয়ে চলে গেছে নির্মাণাধীন পাকা ড্রেন। ড্রেনে পানি জমে থাকলেও প্রবাহ নেই। নির্মাণাধীন ড্রেন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দুরে অবস্থিত দুর্গাপুর গ্রামের একাংশ। সেখানে পাকা ও আধাপাকা অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি রয়েছে। বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য রয়েছে একটি আরসিসি ঢালাইয়ের পাকা সড়ক। তবে সেই সড়কটি ডুবে গেছে পানিতে। সেখানকার শোবার ঘর, রান্নাঘর, টয়লেট, গোয়ালঘর সবখানেই পানি। হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করছে নানাবয়সী মানুষ। কেউ ঘরের পানি সেচে বাইরে ফেলছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রান্নার চুলা জ্বলেনি কারও।
এ সময় ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফার স্ত্রী শিরিনা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘরে পানি, বাথরুমে পানি, টিউবওয়েলে পানি। সকাল থেকে রান্না-খাওয়া সব বন্ধ রয়েছে। পোলাপান স্কুলে যেতে পারছে না। পুরুষ মানুষ কাজে যেতে পারছে না। ১৫-২০ বছর ধরে এভাবে পানির মধ্যেই আমাদের বসবাস।’ গৃহিণী সেলিনা আক্তার বলেন, ‘ছাগল-ভেড়ি (ভেড়া) না খেয়ে রয়েছে। আমরা সকাল পর্যন্ত রান্না করতে পারিনি। খাতি (খেতে) পারিনি। টিউবওয়েল ডুবে গেছে। বাথরুম পর্যন্ত ডুবে গেছে। কয়ডা যে খাবো সেখানেও ভয়। টয়লেটে যাবো ক্যামনে? সবকিছুর অসুবিধা। পরীক্ষা চলছে, ছোয়ালপাল (ছেলে-মেয়ে) স্কুলে যাতি পারতেছে না।’ বৃদ্ধ শাজাহান আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘পানিতি ডুবে রইছি। সবঘরে পানি। ইউএনও সাহেবের একেকারে সামনেই এটা। সেতো কোনোদিনও খোঁজ নেয় না। তাদের কাছে তো কোনো সাহায্য চাচ্ছিনে। আমরা চাচ্ছি এটু সুস্থ থাকতি।’ শাজাহান আলীর স্ত্রী নুরজাহান খাতুন বলেন, ‘বছরে ছয় মাস পানি জমে থাকে। সকাল থেকে একনাগারে বৃষ্টিতে রান্নাঘর, গোয়াল-টোয়াল সব ভাসে গেছে। রান্নাই করতে পারিনি। কেউতো আসে দেখেও না।’ রাজিব হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, ‘বহুকাল পর ড্রেন করেছে কিন্তু পানি যায় না। হাঁটুসমান পানি বেঁধে রয়েছে। পানিতে পয়জন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ঘা-পচরা হচ্ছে। সত্যি বলতে খুব কষ্টে আছি আমরা।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গড়াই নদীর কূলঘেঁষে ১৮৬৯ গঠিত কুমারখালী পৌরসভায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু এখানে ছিল না পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে কয়েকটি ধাপে প্রায় ৩৬ কোটি টাকার ড্রেন ও পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ হাতে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু একবছর মেয়াদি এই নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি দুই বছরেও। আবার নিম্নচাপের কারণে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে কুমারখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মো. মামুুনুর রশিদ। ফলে পৌরসভার ১, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টাও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক, উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথ, উপজেলা সহকারী কমিশনার ও সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনের সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি মাড়িয়ে চলাচল করছে মানুষ। এছাড়া উপজেলা পরিষদ মাঠেও জমে আছে হাঁটুসমান সমানপানি। এ বিষয়ে কুমারখালী পৌর প্রশাসক ও ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, ‘জনবল সংকট, স্থান সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানান কারণে ড্রেন নির্মাণকাজে কিছুটা ধীরগতি হয়েছে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমান জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। খুব শিঘ্র্ই পানি সরে যাবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ