বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
দেশ পুনর্গঠনে সরকার কোনো বাধা মানবে না: প্রধানমন্ত্রী
/ ২৬ দেখা হয়েছে
বার : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২:০৪ অপরাহ্ন

এনএনবি : দল, মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সরকার দেশ পুনর্গঠন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, আমরা এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। সকল সময় আমি একটি কথা বলি, বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। এই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ বিএনপির কাছে থাকবে, যতক্ষণ বিএনপির পাশে জনগণ থাকবেÑ বিএনপি কোনো বাধা মানবে না। সোমবার সকালে বরিশালের গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তারেক রহমান তার সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের কাছে জানতে চান, তারা এই কার্ড পাওয়ার পর কী কী সুবিধা পাচ্ছেন। সুবিধাভোগী পারুল আখতার মঞ্চে এসে বলেন, “আমি এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব ঘুচেছে।
“আমি আশা করি, আগামীতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য এরকম সহযোগিতা করে যাবেন।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে বোনদের কাছে যে কথা শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে একটু হলেও তাদের জন্য সুবিধা হয়েছে সংসারের কাজগুলো গোছানোর জন্য। আমাদের লক্ষ্য এটাই, আমাদের উদ্দেশ্যে এটাইÑ আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারে, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারে।”
তারেক রহমান বলেন, “আজকে আমাদেরকে যদি সামনের দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, যদি দেশের প্রত্যেক মায়ের হাতে, প্রত্যেক নারীর হাতে যদি ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, তাহলে আপনাদের সাহায্য, আপনাদের সমর্থন, আপনাদের সহযোগিতা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রয়োজন। “বিএনপি সরকারকে আপনারা দেশের নারী সমাজ, সকলে যদি বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করে, যদি বিএনপি সরকারের পাশে থাকে, ইনশাল্লাহ আমরা ফ্যামিলি কার্ড আস্তে আস্তে সারাদেশে পৌঁছে দিতে পারব।
“আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সমাজে আমরা একটি বিরাট পরিবর্তন করতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। কারণ ধীরে ধীরে শিক্ষার আলো আলোকিত হবে আমাদের নারীরা। একই সাথে অর্থনৈতিকভাবেও তারা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হবে।” দেশের সবাইকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চান মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা একটি কথা বলি, ‘করব কাজ  গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, ‘করব কাজÑ গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। সবাই যাতে এই বাংলাদেশে আমরা আগামী দিনে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে আমরা বাংলাদেশে একটু ভালো চলতে পারি; সেটি হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি, সেটি হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, সেটিই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য। “আমরা দেশে সকলকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। দেশে আমরা সকল ধর্মের মানুষকে একসাথে নিয়ে শান্তিতে আমরা চলতে চাই। আমরা যদি ধৈর্যশীল হই, আমরা সকলে যদি ধৈর্য সহকারে চলি, তাহলে আমরা আমাদের এই দেশটাকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। “আমরা মুসলমান হই, আমরা হিন্দু হই, আমরা বৌদ্ধ হই, খ্রিষ্টান হই; আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছেÑ সকল ধর্মের মানুষ এই দেশে আমরা শান্তিতে বসবাস করেছি অতীতে। কাজেই বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও আমরা চাই, সকল ধর্মের মানুষকে একসাথে নিয়ে কোনো ভেদাভেদ না। সকলকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। গৌরনদীর ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। ৩৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রী শহরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি লাগোয়া সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর ‘আমার ব্যবহৃত টিস্যু আমার পকেটেই থাকে’ দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ছোট ছোট ব্যক্তিগত অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
এর উদাহরণ দিতে গিয়ে নিজের ব্যবহৃত টিস্যু সবসময় পকেটে জমিয়ে রেখে পরে নির্ধারিত জায়গায় ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার কথা বলেছেন তিনি। সোমবার সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল-বাটাজোর খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান। নিজের অভ্যাসের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার পকেটে যদি হাত দেন, এই দেখেন টিস্যু বের হবে আমার পকেট থেকে। এই টিস্যু একটু আগে মাটি ধরে হাত ধুয়ে ব্যবহার করেছি, সেটা পকেটে রেখেছি। এখানে টিস্যুটা ফেললে তাহলে তো আমি আপনাদের যা বলছি আমি নিজেই সেটা মানলাম না। “সেজন্য ছোটবেলা থেকে আমি অভ্যাস করে নিয়েছি, যখন আমি টিস্যু ব্যবহার করি, তা আমি আমার পকেটের মধ্যে রেখে দিই। আমার যে কোনো প্যান্টের পকেটে হাত দিলেই দেখা যাবে টিস্যু বের হয়ে আসবে।”
তিনি বলেন, “সারাদিনে সব টিস্যু প্যান্টের পকেটে জমা হয়। রাতে যখন আমি বাসায় যাই, ডাস্টবিনের মধ্যে বা যেখানে ময়লা ফেলা থাকে, সেখানে আমি টিস্যুগুলা নিয়ে ফেলে দিই, সারাদিনের ব্যবহৃত টিস্যু।” তারেক রহমান বলেন, এ ধরনের ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা অনেক সহজ হবে। “আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি, আজকে থেকে এই অভ্যাসটি আমরা সকলে মিলে তৈরি করতে পারব। এই অভ্যাসটা যদি আমরা প্রত্যেকটা মানুষ গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আমরা একটা সুন্দর পরিষ্কার একটা দেশ গড়ে তুলতে পারব, এই দেশের পরিবেশ সুন্দর হবে।”
দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবার। তিনি বলেন, “আমি সমগ্র দেশের মানুষকে অনুরোধ করব, আসুন আমরা চেষ্টা করি, যেখানে-সেখানে যেন আবর্জনা না ফেলি। আমাদের কোনো একটা ব্যবহারের জিনিসৃ. পানি খেলাম পানির বোতলটা খালি হয়ে গেল, আমরা যেখানে সেখানে ফেলে না দিই। “কোনো একটা প্যাকেটে করে আমরা কিছু নিয়ে যাচ্ছি, জিনিসটা যখন বের করলাম, প্যাকেটটার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেল, আমরা প্যাকেটটা যেখানে-সেখানে ফেলে দিচ্ছি। এতে করে আমাদের পরিবেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, পরিবেশ দূষিত হলে শেষ পর্যন্ত তার ক্ষতি মানুষেরই হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর নেতিবাচক প্রভাব বহন করবে।
তার ভাষায়, “আমরা যদি নিজের ঘর নিজে পরিষ্কার না রাখি, নিজের দেশকে নিজে যদি ঠিক না করি, নিজের দেশটাকে যদি পরিষ্কার না রাখি, বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিষ্কার করে দেবে না। “আমরা যখন ছবিতে টেলিভিশনে অন্যান্য দেশের ছবি দেখি, আমরা মাঝে মাঝে বলি না? ‘আহা ওদের রাস্তাঘাট কি সুন্দর!’ আমাদের দেশটাকে যদি সুন্দর করতে হয় তাহলে আমাদের সবাইকে চেষ্টা করতে হবে।”
সরিকল-বাটাজোর খালে ভাসমান দুটি প্লাস্টিকের বোতলের দিকে উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন মানুষ পরিষ্কার রাখলেও অন্যরা যদি নিয়মিত ময়লা ফেলেন, তাহলে কোনো স্থানই পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “দেশটাও তো ঘরের মতই। কয়েকজন যদি শুধু পরিষ্কার করে, আর সবাই শুধু ময়লা করতে থাকে, তাহলে তো পরিষ্কার রাখা সম্ভব না। আমাদের সকলে মিলে পরিষ্কার করতে হবে। যেখানে ময়লা ফেলার জায়গা, সেই ময়লাটা সেখানেই ফেলতে হবে।” তারেক রহমান বলেন, বাজার, সড়ক ও জনসমাগমস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা যেমন পরিবেশের ক্ষতি করে, তেমনি দেশের সৌন্দর্যও নষ্ট করে। “ময়লা দেখতে কারো ভালো লাগে? ময়লা হলে কী হয়? পরিবেশটা ময়লা হয়ে যায়, দেখতেও ভালো লাগে না। তাহলে আসুন আমাদের দেশের যতœ আমাদেরকে নিতে হবে, আমাদের দেশকে গড়ে তুলতে হবে আমাদেরকেই।” তিনি বলেন, “আমরা যদি সবাই মিলে চেষ্টা করি, সবাই মিলে আমরা যদি সচেতন হই, তাহলে আমরা আমাদের পরিবেশটা সুন্দর করতে পারব। আমরা যদি আমাদের পরিবেশটা সুন্দর করতে পারি, আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধররা একটা সুন্দর জায়গায় থাকতে পারবে।” বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আসুন আজকে এই বৃক্ষরোপণের দিনে আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি, আমরা আমাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রত্যেকটি মানুষ যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করব, আমাদের আশপাশের পরিবেশের প্রতি আমরা যতœ নেব। আমরা চেষ্টা করব আমাদের আশপাশের ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট যতটুকু সম্ভব পরিবেশটি রক্ষা করার জন্য, পরিবেশটিকে পরিষ্কার রাখার জন্য।” স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ