কাগজ প্রতিবেদক ॥ জুলাই বিপ্লব স্মৃতি স্তম্ভ এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে অবমাননাকর কর্মকান্ড, বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে তদন্তে পূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম সুইট। রোববার (৫ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর আবেদন পত্রটি জমা দেন তিনি। ১৪০০ এর অধিক শহীদ এবং ৩০ হাজারেরও বেশি আহত মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিপ্লবের চেতনা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এই দাবি তোলা হয়। অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়, শান্তা ফারজানা নামে এক ব্যক্তি জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ ও আঘাত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননাকর। মেহের আফরোজ শাওন বিভিন্ন ভিডিও বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই বিপ্লবকে ‘পরিকল্পিত’ বা ‘সাজানো ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপন করে রাষ্ট্র ও বিপ্লব সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহীর বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপ্লবের অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে কটাক্ষ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আন্দোলনকারীদের কর্মকান্ডকে ‘অভিনয়-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হেয় করেছে বলে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম এবং মোমিন মেহেদীর সাম্প্রতিক কর্মকান্ড ও বক্তব্যও জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ক্ষুন্ন করার শামিল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এ বিষয়ে এস এম সুইট বলেন, সম্প্রতি জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা এবং জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ অবমাননার মতো ঘটনা ঘটেছে। রক্তক্ষয়ী একটা বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে আবারও যারা নতুন করে আওয়ামী লীগের দালালি করতেছে, তাদের এই বৈধতা লাভ এবং তাদের পক্ষে যারা বয়ান তৈরি করতেছে, তাদের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সেই দাবিই আমি জানিয়েছি। এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমি বাহিরে আছি, চিঠি দেখবো। ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


