এনএনবি : উত্তর ইরাকে সক্রিয় ইরানি কুর্দি বাহিনীগুলোর সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। ইরাক এবং ইরান দুই জায়গাতেই কুর্দি অঞ্চলগুলোতে হামলা জোরদার হয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার ইরাকের কুর্দিস্তানে চালানো হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছে বিবিসি। ইরাননের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘ইসলামী বিপ্লব বিরোধী’ কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে স্থল যুদ্ধে সম্পৃক্ত করতে চায়- এমন খবরের মধ্যে ইরাকে অবস্থানরত এই কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ওপর আক্রমণ জোরদার করল তেহরান। তবে কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির (পিএকে) হানা হোসেন ইয়াজদান পানা বিবিসি-কে বলেন, “একজন পেশমার্গা (কুর্দি যোদ্ধা) সেনাও এখন পর্যন্ত সীমান্ত অতিক্রম করেনি। আমাদের উপরের আকাশপথ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমরা নড়ব না; সেটি হবে আত্মঘাতী।” ছয়টি কুর্দি বিরোধী দল মিলে সম্প্রতি একটি জোট গঠন করেছে। পানা জানান, তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকলেও মার্কিন সহায়তার অপেক্ষায় আছেন। তিনি কুর্দি বাহিনীর সুরক্ষায় ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেন, “ইরানি শাসনব্যবস্থা খুবই নৃশংস, আর আমাদের কাছে সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র বলতে আছে কেবল কালাশনিকভ।” বুধবার বেলা ১১টার দিকে একটি কুর্দি ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন যোদ্ধা আহত হন, যাদের মধ্যে একজন পরে মারা যান। হামলায় একটি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখানে মাটির নিচে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তান (কেডিপিআই)-এর একটি ঘাঁটিতে মঙ্গলবার ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাতে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। কেডিপিআই-এর এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, তারা খুব শিগগিরই ইরানে লড়াই শুরু করবেন। ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের নেতার সরাসরি কোনো কথা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি। ২৫ বছর বয়সী যোদ্ধা হাসান বলেন, “আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে আগের চেয়েও বেশি মুখিয়ে আছি।”


