এনএনবি : হরমুজ প্রণালী দিয়ে জলপথে বিশ্বের অধিকাংশ তেল আমদানি-রপ্তানি হয়। সেই প্রণালী সম্পূর্ণ দখলে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)। ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থায় এক বিবৃতিতে আইআরজিসি-র নৌ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বুধবার বলেন, “বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ইসলামিক রিপাবলিক (ইরান) এর নৌবাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।”
বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে রপ্তানি হয়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে বহু জাহাজ। ইরানের বিধিনিষেধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল থমকে গেছে। সেই ভিড়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজও। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন তিনি ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী পাঠাচ্ছেন,যাতে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসঙ্গে ইরানে হামলার পর থেকেই পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। সেই উত্তেজনা ছড়ায় হরমুজ প্রণালীতেও। যুদ্ধের শুরু থেকেই এই বাণিজ্যিক জলপথকে দৃশ্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। কিছু জাহাজে হামলার খবরও পাওয়া গেছে। পাল্টা হামলার শুরু থেকেই ইরানে বাহিনী হরমুজ প্রণালী দখলের নওয়ার চেষ্টা শুরু করে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার-ইন-চিফের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারির হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করে তাহলে সেই জাহাজগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।” রাশিয়া এবং চীন ছাড়া অন্যান্য দেশের তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইরান। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এবং বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া জাহাজগুলো থমকে পড়েছে। শিপিং ডাটা ট্র্যাক করা ক্লার্কসন্স রিসার্চ এর হিসাবমতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অলস বসে আছে ৩, ২০০ জাহাজ, যা বৈশ্বিক জাহাজের প্রায় ৪ শতাংশ। এর মধ্যে ১,২৩০ টি জাহাজ কেবল উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যেই ঘোরাফেরা করতে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


