কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ায় এক চিকিৎসকের বাড়ীতে অন্তস্বত্বাঃ গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা চুরির অভিযোগে অভিযুক্তের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে আটকে রাখা হয় । অবশেষে ৯৯৯ কলে অভিযোগ করলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের একটি বাড়ির জানালার ভেতর থেকে অসহায় কণ্ঠে উচ্চারিত হয়। আমাকে বাঁচাও। আমাকে বাঁচাও। দুই দিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে আমাকে। আমাকে বাঁচান, আমাকে বের করে নিন।”এই আর্তনাদ মুহূর্তেই নাড়া দেয় আশপাশের মানুষকে। জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর কান্নাজড়িত আকুতি শুনে স্থানীয়রা আর নীরব থাকতে পারেননি। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯এ ফোন করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, স্বামীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের জেরে ওই গৃহবধূকে দুইদিন ধরে কুষ্টিয়া শহরের গোরস্থান পাড়া এলাকার এক বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল। বাসাটি শহরের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ কলোলের বাসা। উদ্ধার হওয়া নারীর নাম অস্তি। পরিবারের দাবি, তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং আটকে রাখার সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। অস্তির ভাই জুবাইর ইসলাম বলেন, “আমার বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে ডাক্তারের বাসা থেকে চুরির অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই অভিযোগের কারণে আমার বোনকে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হবে, এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। পুলিশ ফোন দিয়ে আমাদের খবর দেয়। আমরা থানায় গিয়ে মুচলেকা দিয়ে তাকে নিয়ে আসি।”
পরিবারের সদস্য ইসমতারা অভিযোগ করেন, “আমার ননদ অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। দুই দিন ধরে তাকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয়নি। তিনি ভয়, আতঙ্ক আর মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছিলেন। একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি সামনে আসে মূলত
একটি ভিডিওর মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাসার জানালায় দাঁড়িয়ে এক নারী বাইরে থাকা লোকজনের কাছে সাহায্য চাইছেন। তার কণ্ঠে ছিল আতঙ্ক, চোখেমুখে ছিল অসহায়ত্বের ছাপ। উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডা. কলোল তার মাকে নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি শুধু বলেন, “যা বলার থানায় বলে এসেছি।” এরপর আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার বিচার করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু অভিযোগের জেরে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে আটকে রাখা হলে তা মানবিক ও আইল্লিদুই দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ।” আরেকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “ভিডিওতে ওই নারীর কান্না দেখে আমরা মর্মাহত হয়েছি। একজন নারী জানালা ধরে দাঁড়িয়ে প্রাণভিক্ষার মতো সাহায্য চাইছেন এ দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক।”
মেয়েটিকে কুষ্টিয়া মডেল থানায় নেয়া হলে ডা. কল্লোল রাতেই থানাথানায় যান। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে সরে পড়েন।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া শহরের জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই কল্লোলের বিচার দাবী করেছে


