বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ইউক্রেনের পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইরানের শাহেদ ড্রোন
/ ৭৬ দেখা হয়েছে
বার : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

এনএনবি : ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ–১৩৬’ ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছে রাশিয়া। সেই ড্রোন এখন মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যবহার করছে ইরান। ৫০ হাজার ডলার মূল্যের এই ড্রোনগুলো ইঞ্জিনের কর্কশ শব্দের জন্য আলাদা করে চেনা যায়। গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে কয়েক শ শাহেদ ড্রোন। যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয় দেখাতে তেহরান এই কৌশল নিয়েছে। বাহরাইন থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের আঁধারে একটি ডেল্টা-উইং ড্রোন ঘাস কাটার মেশিনের মতো (লনমাওয়ার) কর্কশ শব্দে একটি বহুতল ভবনের দিকে ধেয়ে আসছে এবং সজোরে সেটিতে আঘাত হানছে। এতে ভবনের ব্যালকনি দিয়ে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা যায়। সম্ভবত অ্যাপার্টমেন্টটি সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা পায়নি। গত শনিবার সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর একটি বড় অংশই শাহেদ–১৩৬ মডেলের।
সোমবার বিকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের ওপর ৬৮৯টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪৫টি ড্রোন তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ৪৪টি ড্রোন (মোট ড্রোনের প্রায় ৬ শতাংশের বেশি) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
যেভাবে কাজ করে শাহেদ ড্রোন শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ৩ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ এবং এর ডানার বিস্তার ২ দশমিক ৫ মিটার। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি সস্তা এবং তৈরি করা সহজ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার আগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরান বছরে কয়েক ডজন তৈরি করতে পারত। ফলে কিছু সময়ের জন্য চলমান সংঘাতের একটি অংশজুড়ে থাকতে পারে এসব ড্রোনই। একটি শাহেদ ড্রোন প্রায় ৫০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে, যা একটি আকাশচুম্বী ভবন ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট হলেও তা ধসিয়ে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নয়। এই ড্রোনগুলো তুলনামূলক ধীরগতির (যদিও ইউক্রেনে অবশ্য এর দ্রুতগতির জেট ইঞ্জিন সংস্করণও দেখা গেছে), কিন্তু এগুলোর বড় আকৃতি, ইঞ্জিনের উচ্চ শব্দ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার ধরন সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
বাহরাইন থেকে পাওয়া দ্বিতীয় একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের ঠিক ওপর দিয়ে একটি ডেল্টা-উইং ড্রোন উড়ে যাচ্ছে। ড্রোনটি সফলভাবে নিচের দিকে নেমে একটি রাডার ডোমে আঘাত হানে এবং সেটি ধ্বংস করে দেয়। এ ছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও শাহেদ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সাইপ্রাসের আক্রোতিরিতে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর (আরএএফ) একটি ঘাঁটিতেও সম্ভবত এই ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এই ড্রোনগুলোর পাল্লা সর্বোচ্চ দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এগুলো সাধারণত আগে থেকেই ঠিক করে দেওয়া জটিল পথ ধরে উড়তে সক্ষম। রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য এগুলো নিচ দিয়ে উড়ে যায়। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে এমন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে এই ড্রোনগুলো দূর থেকে অপারেটরের মাধ্যমেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যার ফলে একদম শেষ মুহূর্তেও এগুলো দিক পরিবর্তন করতে পারে। শাহেদ-১৩৬ ড্রোনগুলো গত দশকের শেষের দিকে ইরানে নকশা করা হয়েছিল। ২০২১ সালের জুলাই মাসে ইসরাইলি মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজ ‘মার্সার স্ট্রিট’-এ হামলার মাধ্যমে প্রথম এই ড্রোনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। ওই হামলায় একজন ব্রিটিশ ও একজন রোমানিয়ার নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।
এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় হামলায়ও সম্ভবত এই ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ রিসার্চ সেন্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান মূলত এই ড্রোনের নকশা করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অধীনস্থ। তবে ২০২২ সালের শরৎকাল থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ব্যাপক ব্যবহারের ফলেই এই ড্রোন বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।
শুরুতে ইরান থেকে রপ্তানি করা হলেও পরবর্তী সময়ে এই ড্রোনের প্রযুক্তি রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে তেহরান। এরপর রাশিয়ার ভোলগা নদীর তীরে অবস্থিত ইয়েলাবুগা শহরের একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণে এই ড্রোন তৈরি করা হচ্ছে।
রাশিয়া সাধারণত ইউক্রেনে হামলার সময় একসঙ্গে প্রায় ৮০০টি শাহেদ–১৩৬ ড্রোন, একই রকম দেখতে ‘জেবেরা’ ডেকয় (ধোঁকা দেওয়ার ড্রোন) এবং অল্পসংখ্যক ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। মূলত ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতেই ‘ঝাঁক বেঁধে’ এই হামলা চালানো হয়, যাতে ড্রোনের আড়ালে আরও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যে আঘাত হানতে সফল হতে পারে। তবে গত সপ্তাহান্তে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শাহেদ ড্রোনের বেশির ভাগ ভিডিওতে দেখা গেছে, সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে ড্রোনের বিশাল কোনো ঝাঁক নয়, বরং বিচ্ছিন্নভাবে একেকটি ড্রোনকে আঘাত হানতে দেখা গেছে। ইউক্রেনে শাহেদ ড্রোনগুলো স্থির লক্ষ্যবস্তুতে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে চলতি শীতে দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ ঘরবাড়িতে এর প্রভাব পড়েছে।
ইরান যদি এই একই কৌশল অবলম্বন করে তবে তারা সফল হতে পারে। সোমবার সকালে সৌদি আরবের বৃহত্তম শোধনাগার রাস তানুরায় ড্রোন হামলার পর অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। এর ফলে শোধনাগারটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এই হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি শাহেদ ড্রোন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে এর ধ্বংসক্ষমতা ছিল একই রকম। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ