বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
দেশি টেংরা মাছ চাষ পদ্ধতি
/ ৪৯ দেখা হয়েছে
বার : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ন

কৃষি প্রতিবেদক ॥ দেশি টেংরা (Mystus vittatus) বাংলাদেশে অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি স্বাদু পানির মাছ, যা এর সুস্বাদু স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও বাজারমূল্যের কারণে চাষযোগ্য একটি সম্ভাবনাময় জাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই মাছটি মূলত নদী-নালায় স্বাভাবিকভাবে জন্মালেও, পরিবেশগত বিপর্যয় ও অতিরিক্ত আহরণের ফলে এখন বিলুপ্তির পথে। কিন্তু বর্তমানে কৃত্রিম প্রজনন ও আধুনিক চাষপদ্ধতির মাধ্যমে এই মাছের চাষ করে একটি লাভজনক ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। টেংরা চাষের জন্য প্রথমেই একটি উপযুক্ত পুকুর নির্বাচন করতে হয়, যার আয়তন অন্তত ৮ থেকে ১০ শতাংশ এবং গভীরতা ১ থেকে ১.৫ মিটার হওয়া উচিত। পুকুরটি এমন জায়গায় হওয়া উচিত যেখানে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পৌঁছায়, পানি জমে না থাকে এবং মাছের চলাচলে কোনও বাধা না থাকে। পুকুর প্রস্তুতির শুরুতেই পানি শুকিয়ে প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হয় এবং এক সপ্তাহ পর ইউরিয়া (৫০–৭০ গ্রাম), টিএসপি (৩০–৫০ গ্রাম), ও গোবর (৩–৪ কেজি) দিয়ে পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনের পরিবেশ তৈরি করতে হয়। এরপর কৃত্রিম প্রজননের জন্য উপযুক্ত মা ও পিতৃ মাছ নির্বাচন করে তাদের হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে ডিম সংগ্রহ করতে হয়। সাধারণত এপ্রিল থেকে আগস্ট মাসে প্রজনন মৌসুম শুরু হয়। প্রাপ্ত ডিমগুলো ২০–২২ ঘণ্টার মধ্যে ফুটে রেণুতে পরিণত হয় এবং ৭–১০ দিন পরে রেণু পোনায় পরিণত হলে তা পুকুরে ছাড়তে হয়। পোনাগুলো ছাড়ার পরে প্রথম দিকে প্রাকৃতিক খাবার যেমন—অ্যালগি, জুপ্ল্যাঙ্কটন ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে, কিন্তু পরে তাদের অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ করতে হয়। এজন্য সম্পূরক খাদ্য তৈরি করা হয় যা চালের কুঁড়া (২৫–৩০%), গমের ভুসি (১৫–২০%), সরিষার খৈল (২০–২৫%), সয়াবিন মিল (১০–১৫%) এবং মাছ বা চিংড়ির গুঁড়া (১৫–২০%) মিশিয়ে তৈরি করা হয়, সাথে ভিটামিন ও মিনারেল প্রিমিক্স ১–২% যোগ করা হয়। প্রতিদিন মাছের মোট ওজনের ৫–৮% হারে খাদ্য সরবরাহ করা হয়, দিনে ২ বার ভাগ করে দেওয়া উত্তম। মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য খাদ্য সময়মতো এবং সঠিক অনুপাতে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিনিয়ত পুকুরের পানির মান যেমন—pH, দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO), অ্যামোনিয়া ও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক। যদি পানির রঙ বেশি গাঢ় হয়ে যায় বা মাছের আচরণ অস্বাভাবিক দেখায়, তবে দ্রুত পানি পরিবর্তন বা ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়। সাধারণত পুকুরে টেংরার সাথে মাগুর, পুঁটি বা তেলাপিয়ার মিশ্র চাষ করলে খাদ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং একে অপরের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতি ১৫ দিনে একবার মাছের কিছু নমুনা জাল দিয়ে তুলে পর্যবেক্ষণ করা দরকার। মাছ যদি কুন্ডলি পাকিয়ে সাঁতার কাটে, শরীরে লাল দাগ বা ছত্রাক দেখা যায়, তাহলে দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে হয়। প্রয়োজনে স্থানীয় মৎস্য অফিস বা প্রশিক্ষিত মৎস্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বর্তমানে অনেক খামারি আধুনিক পদ্ধতিতে যেমন—বায়োফ্লক (Biofloc) ও আরএএস (RAS – Recirculating Aquaculture System) ব্যবহার করে টেংরা মাছ চাষে সাফল্য অর্জন করছেন। এই পদ্ধতিগুলোতে পানি পুনঃব্যবহার, অল্প জায়গায় বেশি উৎপাদন এবং রোগ কম দেখা দেয়, যদিও প্রাথমিক বিনিয়োগ বেশি হয়। সাধারণ পদ্ধতিতে প্রতি হেক্টরে প্রায় ২–৫ টন টেংরা উৎপাদন সম্ভব, যেখানে বায়োফ্লক বা RAS পদ্ধতিতে এর চেয়ে দ্বিগুণ বা ততোধিক ফলন সম্ভব হয়। টেংরা মাছ সাধারণত ৮–১০ মাসে বাজারজাতযোগ্য হয় এবং প্রতি কেজি মাছ বাজারে ৪০০–৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়, যা একজন খামারির জন্য অত্যন্ত লাভজনক। মাছ জীবন্ত অবস্থায় বাজারজাত করলে এর দাম আরও বেশি পাওয়া যায়। সার্বিকভাবে, দেশি টেংরা মাছ চাষ এখন একটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক উদ্যোগ। পরিকল্পিত পুকুর প্রস্তুতি, মানসম্পন্ন পোনা ব্যবস্থাপনা, সুষম খাদ্য সরবরাহ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একজন খামারি স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ অর্জন করতে পারেন। দেশের চাহিদা পূরণ ছাড়াও টেংরা মাছের চাষ বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করছে। ফলে এই মাছ চাষ কেবল একটি পেশা নয়, বরং দেশের যুব সমাজের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের একটি সম্ভাবনাময় পথ হয়ে উঠে

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ