এনএনবি : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার দেশকে ইরানে হামলা চালাতে হয়েছে। কারণ, ইরানের পারমাণবিক শক্তির সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য এটিই সবচেয়ে ভালো সুযোগ ছিল। সোমবার হোয়াইট হাউজে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানে হামলা চালানোর এটিই ছিল ‘শেষ সেরা সুযোগ’। এ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত বলে তিনি দাবি করেন। গত শনিবার সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু করার পর এই প্রথম কোনও অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে এই বিষয়ে মন্তব্য করলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তিন সেনাসদস্যকে ‘মেডেল অব অনার’ প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, “একটি অসুস্থ ও পাপিষ্ঠ শাসনব্যবস্থা থেকে আসা অসহনীয় হুমকি দূর করতেই আমরা বর্তমানে এই পদক্ষেপ নিচ্ছি।” তিনি গত গ্রীষ্মে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সেই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার পর আমরা তাদের সতর্ক করেছিলাম অন্য কোথাও নতুন করে পারমাণবিক কেন্দ্র না গড়তে। কিন্তু তারা সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছোটা অব্যাহত রেখেছে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, ইরানের কাছে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউরোপ এবং বিদেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম। তাছাড়া, দেশটি খুব শিগগিরই সরাসরি আমেরিকায় আঘাত হানার মতো ক্ষেপণাস্ত্র অর্জনের দ্বারপ্রান্তে ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমান অনুযায়ী ইরানে এই সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রয়োজনে এর চেয়েও অনেক বেশি সময় ধরে অভিযান চালানোর সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। লক্ষ্য অর্জনে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তা-ই করব।” বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন এই অভিযান থেকে পিছু হটবে না।


