কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় ২শ ৫০টি ডায়াগণষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক থাকলেও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শুধু শহরের কোর্টপাড়াস্থ তুলসান ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক মহেন্দ্র আগরওয়ালাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অনাদায়ে ৭ দিনের কারাবাসের আদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
জানা যায়, এমবিবিএস না হয়ে আল্ট্রাসনো রিপোর্ট করার দায়ে শহরের কোর্টপাড়াস্থ ‘তুলসান ডায়াগনষ্টিক সেন্টার’ নামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিলগালা, প্রতিষ্ঠানের মালিকের ১মাসের কারাদন্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে ওই ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনিরা আকতার। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা: শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন। ভ্রাম্যমান আদালতকে সহযোগিতায় ছিলেন পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনিরা আকতার তার আদেশে উল্লেখ করেছেন- ডা. মহেন্দ্র কুমার আগরওয়াল পিতা দেবীদত আগরওয়াল, আমলাপাড়া, কুষ্টিয়া সদর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন- ২০০৯ এর ৫২ ধারায় অপরাধ করায় এবং স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে দোষ স্বীকার করায় ডা. মহেন্দ্র আগরওয়াল’কে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হলো। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ৭ দিনের কারাবাস করতে হবে’।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি নিজেই সোর্সিং করে যাচায় করেছি, উনি এমবিবিএস ডাক্তার না হয়েই আল্ট্রাসনো করে রিপোর্ট দিচ্ছেন। একজন এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়া কোন ভাবেই আল্ট্রাসনোগ্রাম করা বা রিপোর্ট তৈরী করার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া উনার রিপোর্টে যে এমবিবিএস ডাক্তারের নাম ব্যবহার করা হয়েছে আমরা উনার সাথে তাৎক্ষনিক মোবইল কলে কথা বলে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানিয়েছেন, ওই আল্ট্রা সনো করার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। তুলসান ডায়াগস্টিক সেন্টারের মালিক মহেন্দ্র আগরওয়াল এভাবে দীর্ঘদিন ধরে জাল জালিয়াতি করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন সিদ্ধান্ত নেবেন ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট’।
তবে এবিষয়ে দন্ডপ্রাপ্ত মহেন্দ্র কুমার আগরওয়াল এর ছোট ভাই কুষ্টিয়া শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা: কৈলাশ কুমার তুলসানের অভিযোগ, ‘আমার বড় ভাই প্রকৃত অর্থে একজন দক্ষ আল্ট্রা সনো টেকনিশিয়ান। তার আল্টা সনো রিপোর্টকে মানসম্মত হিসেবেই জানেন চিকিৎসরা। উনি কার্যত: খুব সামান্য অর্থের বিনিময়ে সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আল্ট্রাসনো করে দেয়ার কারনে শহরের শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্বার্থহানী হওয়ায় তারাই সিভিল সার্জনকে টাকা পয়সার বিনিময়ে ইনফ্লুয়েন্স করে এই হয়রানিটা করালেন’। বড় ভাই মহেন্দ্র যে কাজটি করছেন, এই একই কাজ জেলার সবগুলি প্রাইভেট ক্লিনিকেও হচ্ছে এবং আরও অধিক নি¤œমানের টেকনিশিয়ানদের দিয়ে করানো হচ্ছে’। আইন প্রয়োগ হলে সবার জন্যই হওয়া উচিত’। এদিকে জেলায় প্রায় ২শ ৫০ টি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক থাকলেও শুধ এখানে অভিযান কেন সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ কামাল হোসেন জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে সকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।


