বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
বিক্রি হয়েছে টাঙ্গাইলের ৫৬ মণের সেই ‘কালো মানিক’, কিনেছেন কুষ্টিয়ার আলাউদ্দিন আহমেদ খাওয়ানো হবে এতিমদের
/ ১০৭ দেখা হয়েছে
বার : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ন

কাগজ প্রতিবেদক ॥ বিক্রি হয়েছে টাঙ্গাইলের সেই ৫৬ মনের কালো মানিক। কিনেছেন কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট সমজা সেবক আলহাজ¦ আলাউদ্দিন আহমেদ। খাওয়ানো হবে এতিম, দুস্থ্য, অসহায়দের। টাঙ্গাইলের খামারি হামিদা আক্তার (২৯)। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে পরম মমতায় সন্তানের মতো লালন-পালন করেছিলেন সাদা-কালো রঙের একটি ষাঁড়। প্রায় ৫৬ মণ ওজনের ষাঁড়টির শখ করে নাম রাখেন ‘মানিক’। প্রত্যাশা ছিল গতবারের ঈদে কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করবেন। একজন ১৫ লাখ টাকা দামও বলেছিলেন। কিন্তু দামদাতা আর না আসায় সেবার গরু বেচাকেনা হয়নি।
তাই অনেক কষ্টে ধারদেনা করে মানিককে আরও এক বছর লালন-পালন করেন তিনি। ইচ্ছা ছিল এবারের ঈদে বিক্রি করবেন। এবারও একজন ১৮ লাখ টাকা দাম মিটিয়ে চলে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে! ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেও সেই ক্রেতা আর ফিরে আসেননি। এতেই ভালোবাসার মানিক হামিদার জীবনের সবচেয়ে বড় ‘গলার কাঁটা’য় পরিণত হয়।
অবশেষে হামিদার পাশে দাঁড়িয়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাসিন্দা আলাউদ্দিন আহমেদ। তার প্রতিষ্ঠিত ‘আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে গরুটি কিনে নিয়েছে। এতে হামিদার মুখে ফুটেছে হাসি। খামারি হামিদা টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ভেঙ্গুলার গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে। ‘মানিক’ নামের ষাঁড়টি বর্তমানে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগরের আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের খামারে যতœসহকারে লালন-পালন করা হচ্ছে। আসন্ন ঈদের তৃতীয় দিন ষাঁড়টিকে জবাই করে এতিম, দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হবে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, টিনশেডের পাকা ঘরে রাখা হয়েছে সাদা-কালো রঙের মানিককে। মাথার ওপরে ঘুরছে ফ্যান। উৎসুক কেউ কেউ গরুটি দেখতে এসেছেন। খামারটির কর্মচারী রেহেনা বেগম বলেন, ‘বিশাল দেহের গরু মানিককে সোমবার (২৫ মে) টাঙ্গাইল থেকে আনা হয়েছে। তাকে উন্নতমানের খাবার দিয়ে যতœ করা হচ্ছে। ঈদের পর রান্না করে এতিমদের খাওয়ানো হবে।’ এ বিষয়ে গরুটির লালন-পালনকারী হামিদা আক্তার বলেন, ‘আমার এতটুকুই লাভ হয়েছে যে আমি কিছু ঋণ শোধ করতে পারছি। তারপরও আলহামদুলিল¬াহ। সবসময় ইচ্ছা ছিল ভালো একটা লোক পাইলে তার কাছে বিক্রি করবো মানিকরে। তাতে লস-লাভ দুই টাকা কম বেশি হোক। তবুও কোনো ব্যাপারী কিংবা কসাইয়ের কাছে মানিকরে বেচবো না। ভালো লোকের কাছে বিক্রি করতে পেরে আমি খুব খুশি।’

প্রায় ১৩ মিনিটের আলাপকালে তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে দুই হাজার ৮০ কেজি ওজন ছিল। বর্তমান মাপ জানা নেই। গতবছর একজন ১৫ লাখ আর এবছর একজন ১৮ লাখ টাকা দাম মিটিয়ে চলে গিয়ে আর ফেরেননি। ২০ লাখ টাকায় ষাঁড়টি বিক্রির ইচ্ছা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বড় গরু কেনার লোক নেই। আবার আরেক বছর পালন করার টাকাও নেই। তাই ১১ লাখ ২০ হাজার টাকায় একজন ভালো মানুষের কাছে বিক্রি করেছি। এতেই খুশি।’ লাভ-লস প্রসঙ্গে হামিদা আক্তার বলেন, ‘১০ বছর ধইরা পালন করতেছি। আর এখানে যে খাবার খাওয়াছি, খরচের অর্ধেক টাকার চালান উঠে নাই। কষ্ট পরিশ্রম, রাতজাগা এসব তো বাদই। প্রতিদিন ১০ হালি করে বিচি কলা খায়। চার কেজি করে বুট খায়। ভূসি যতটুকু পারে আর এককেজি আতপ চালের ভাত খায়। অনেক টাকা ধারদেনা। তাই বিক্রি করে ঋণ শোধ দিছি। এখনো ঋণ আছে চার লাখ ৮০ হাজার টাকা।’ ২০২৪ সালে স্নাতক পড়ার সময় হামিদার মা মারা যান। এখন পরিবারে ছোট বোন আর বৃদ্ধ বাবা। বর্তমানে স্নাতকোত্তরে পড়ছেন এই খামারি। বিকাশের দোকানের পাশাপাশি বাড়ির খামার দেখাশোনা করছেন। হামিদা আক্তার বলেন, ‘ইচ্ছা একটা খামার করবো। আর লাভের টাকায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবো। ১৫ লাখ চাইছিলাম। তবে ক্রেতা পাবোনা বলে এই দামে (১১ লাখ ২০ হাজার) বিক্রি করেছি। তবুও আলহামদুলিল¬াহ। দোয়া করবেন। খামারে আরও ১০টি গরু আছে। এখানে যেন ভালো লাভ হয়।’আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম বলেন, ‘অনলাইনে নারী উদ্যোক্তা হামিদার অসহায়ত্ব প্রকাশ পেলে তার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসেন সারথি হন দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদ। বছরের পর বছর বুকে পাথর চেপে রাখা যে মানুষগুলোর পাতে এক টুকরো ভালো খাবার জোটেনি, সেই মলিন মুখগুলোতে একটুখানি পরম তৃপ্তির হাসি ফোটাতে ঈদের তৃতীয় দিন গরুটিকে রান্না করে খাওয়ানো হবে।’

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ