বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বদলে কমানোর পথ খোঁজার দাবি গণশুনানিতে
/ ৭৪ দেখা হয়েছে
বার : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ন

এনএনবি : বিদ্যুতের খুচরা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানিতে ভোক্তার ওপর নতুন চাপ না দিয়ে ব্যয় কমানোর পথ খোঁজার দাবি তুলেছেন অংশীজনরা। তাদের কেউ বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতকে মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে দেখা যাবে না। কেউ বলেছেন, ক্যাপাসিটি চার্জ, সিস্টেম লস, প্রকল্প ব্যয় ও অদক্ষতার বোঝা ভোক্তার ওপর চাপানো যাবে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের গণশুনানির শেষ দিনে খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে শুনানি হয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে শুনানিতে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির উপস্থাপনায় বলা হয়, ছয় বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানি প্রতি ইউনিটে বিতরণ ব্যয় ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা ধরে খুচরা ট্যারিফ পুনর্র্নিধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।
পিডিবি প্রতি ইউনিটে বিতরণ ব্যয় ধরেছে ৮৫ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা। তবে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বলছে, ছয় সংস্থার ভারিত গড়ে নিট বিতরণ ব্যয় দাঁড়ায় প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২৫ পয়সা। কমিটির হিসাবে পিডিবির নিট বিতরণ ব্যয় ৭৫ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ১ টাকা ৩৯ পয়সা, ডিপিডিসির ১ টাকা ১৮ পয়সা, ডেসকোর ১ টাকা ১৬ পয়সা, ওজোপাডিকোর ১ টাকা ৩৩ পয়সা এবং নেসকোর ১ টাকা ৪৩ পয়সা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ছয় সংস্থা ও কোম্পানির মোট নিট বিতরণ ব্যয় ১১ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা। এ সময়ে বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৬১৩ মিলিয়ন ইউনিট। কারিগরি কমিটির উপস্থাপনায় বলা হয়, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ছয় বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানির মোট গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯৮ লাখের বেশি। এর মধ্যে গৃহস্থালি গ্রাহক ৪ কোটি ২৫ লাখের বেশি এবং লাইফলাইন গ্রাহক প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ। বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের গ্রাহক সবচেয়ে বেশি। মার্চ পর্যন্ত তাদের মোট গ্রাহক ৩ কোটি ৯১ লাখের বেশি, গৃহস্থালি গ্রাহক ৩ কোটি ৩৯ লাখের বেশি। শুনানিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, প্রস্তাবে কখনও কোটি টাকা, কখনও মিলিয়ন টাকা ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। তিনি বলেন, “দিন শেষে এটা টাকা পয়সার হিসাব। তাই হিসাব উপস্থাপনের সময় কোটি আর মিলিয়ন একসঙ্গে ব্যবহার না করাই ভালো।”
রেট অব রিটার্ন ও করপোরেট ট্যাক্স বিদ্যুতের দামে যুক্ত করার বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি। তিনি বলেন, “সরকারকে মুনাফাখোর চরিত্রের দিকে নেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রের মনোপলি সেবা কস্ট টু কস্ট হওয়া উচিত, কস্ট প্লাস নয়।” সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বদলে কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে গণশুনানি হওয়া দরকার। তিনি বলেন, দরিদ্র গ্রাহকদের জন্য শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিইআরসির সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া উচিত। স্ল্যাব পরিবর্তনের প্রস্তাবের সমালোচনা করে প্রিন্স বলেন, “লাইফলাইন গ্রাহকের নামে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্তের পকেট কাটার নতুন ব্যবস্থা করা হচ্ছে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, দাম বাড়ানোর যুক্তি উপস্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম কীভাবে কমানো যায়, সেই পরিকল্পনাও থাকা উচিত। তিনি বলেন, “প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বলতে হবে, তারা কীভাবে বিদ্যুতের দাম কমাতে পারে।” ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত সক্ষমতার জন্য বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। আইপিপি ও রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জেবউননেসা বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলো নিজেদের দুর্নীতি, অদক্ষতা ও প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে না পারলে শুধু ট্যারিফ বাড়িয়ে সংকটের সমাধান হবে না। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে কমিশনের কিছু করার সীমা আছে। ঘাটতি কেন হলো, সেই কারণও খুঁজতে হবে।” বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২৩০ কেভি, ১৩২ কেভি ও ৩৩ কেভি পর্যায়ের বড় শিল্প গ্রাহকরা নিজেদের অর্থায়নে সাবস্টেশন ও সংযোগ অবকাঠামো তৈরি করেছেন। “আমরা সিস্টেম লস মুক্ত গ্রাহক। নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো তৈরি করেছি। তাই আমাদের ক্ষেত্রে সিস্টেম লসের হিসাব চাপানো উচিত নয়।” জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বড় শিল্প গ্রাহকদের বিদ্যুৎ মূল্য না বাড়িয়ে ডিমান্ড চার্জ ও পাওয়ার ফ্যাক্টরভিত্তিক অতিরিক্ত চার্জ পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার। “অবকাঠামো আমরা নির্মাণ করেছি। তারপরও প্রতি মাসে ডিমান্ড চার্জ দিতে হচ্ছে। এই ডিমান্ড চার্জ থেকে আমরা রেহাই চাই।” বিদ্যুৎ সংযোগের সময় জমা দেওয়া নিরাপত্তা আমানতের সুদ বিলের সঙ্গে সমন্বয়েরও দাবি জানান তিনি। কারিগরি কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এলটি গ্রাহকশ্রেণির অনুমোদিত লোডসীমা ৮০ কিলোওয়াট থেকে কমিয়ে ৫০ কিলোওয়াট করতে হলে আগে তৃতীয় পক্ষ বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেগুলেটরি ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করা সমীচীন। কমিটি বলেছে, কোনো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা যথাযথ নয়। নন ডিমান্ড মিটারধারী গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভিত্তিতে অতিরিক্ত লোড নির্ধারণও যথাযথ হবে না বলে কমিটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গ্রাহকের লোড পরিমাপ করা যেতে পারে অথবা পর্যায়ক্রমে ডিমান্ড মিটার স্থাপন করা যেতে পারে। কমিটি আরও বলেছে, কোনো আবাসিক গ্রাহকের সংযোগ থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অটোরিকশা চার্জ করা যাবে নাÑ এমন বিধান রাখা যেতে পারে।
বস্তি এলাকার গ্রাহকের জন্য আবাসিক শ্রেণির আওতায় একটি ফ্ল্যাট ট্যারিফ চালুর বিষয়ও বিবেচনার সুপারিশ করেছে কমিটি। শুনানিতে জ্বালানি খাতের পর্যবেক্ষক শুভ কিবরিয়া বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দৃষ্টিভঙ্গি অনুপস্থিত। তিনি বলেন, “সরকার একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য বলছে, আর বিতরণ কোম্পানিগুলো অন্যদিকে নেট মিটারিং বা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা হিসেবে দেখছে।” শুভ কিবরিয়া বলেন, বিইআরসি আইন ও প্রবিধান ভোক্তাবান্ধব করতে সংস্কার দরকার। “সরকার ব্যবসা করতে পারে না। বিদ্যুৎ খাতকে মুনাফার জায়গা বানানো যাবে না।” শুনানি শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, শুনানিতে বিভিন্ন পক্ষের মতামত, পর্যবেক্ষণ, তথ্য উপাত্ত ও দলিল বিবেচনায় নেওয়া হবে। বক্তব্যগুলো লিপিবদ্ধ ও রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা এরপরেও লিখিত কোনো বক্তব্য দিতে চান, তারা ২৩ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে আমাদের কাছে পাঠাবেন।” ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল খাতের প্রকল্প গ্রহণের আগে বিইআরসির মতামত নেওয়ার বিষয়েও সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেন তিনি। জালাল আহমেদ বলেন, “কোনো প্রকল্প বিইআরসির মতামত ছাড়া পরিকল্পনা পর্যায়ে পরিকল্পনা কমিশনে যেন না যায়, এটা আমরা অত্যন্ত সিরিয়াসলি দেখব।”
তিনি বলেন, আগের কমিশনগুলোর সময়ে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের জন্য বিইআরসিতে আসেনি। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ খাতের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে; নতুন কোনো প্রকল্প এখনও কমিশনে আসেনি। ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে জালাল আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বা পিপিএগুলো বিইআরসিতে আসেনি। এসব চুক্তি কমিশন পর্যালোচনা করলে দায় কমিশনের ওপরও আসত। তিনি বলেন, “ক্যাপাসিটি চার্জের জন্য ভর্তুকির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। এটি নিঃসন্দেহে জাতির জন্য ক্ষতিকর কাজ হয়েছে।” বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত যে কোনো প্রকল্প কমিশনের পূর্বানুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে।
“কমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ভোক্তার স্বার্থ দেখা। নিঃসন্দেহে আমরা এটা থেকে বিচ্যুত হব না।”

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ