এনএনবি : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার চীন সফরের শেষ দিনটি কাটিয়েছেন ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির অত্যন্ত গোপন এবং কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ‘ঝংনানহাই’ চত্বরে। কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান কার্যালয় এবং মন্ত্রিসভার দপ্তর এই চত্বরেই অবস্থিত। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘নিষিদ্ধ নগরী’ ও তিয়েনআনমেন স্কয়ার সংলগ্ন এই চত্বরটি একসময় রাজকীয় উদ্যান ছিল, যেখানে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
এই দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ঝংনানহাইয়ের অবস্থান গোপন। রাজধানী বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দেয়াল ঘেরা এই চত্বরে ঢোকার সৌভাগ্য হাতেগোনা যে কয়েকজন নেতার হয়েছে তার মধ্যে ট্রাম্প একজন।
ট্রাম্প তার সফরের শেষ সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই চত্বরের মনোরম বাগানে একসঙ্গে হেঁটে বেড়িয়েছেন। একান্তে তাদের এই বাগান পরিদর্শন রাজনৈতিক মহলে নজর কেড়েছে। বাগান ঘুরে দেখার সময় দুই নেতার কথোপকথন একটি ‘হট মাইক’-এ ধরা পড়ে। তাতে শোনা যায়, বাগানের গাছের দীর্ঘায়ু দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন ট্রাম্প। শি জিনপিং দোভাষীর মাধ্যমে ট্রাম্পকে বিশালাকার কিছু গাছ দেখিয়ে বলেন, “এই পাশের সব গাছের বয়স ২০০ থেকে ৩০০ বছরের বেশি। আর ওই দিকের কিছু গাছের বয়স ৪০০ বছরেরও বেশি।” শুনে অবাক হয়ে ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, “এগুলো কি আসলেই এতদিন বাঁচে?” উত্তরে শি জানান, অন্য জায়গায় ১ হাজার বছরের পুরনো গাছও রয়েছে। বাগান ঘুরে দেখার এক পর্যায়ে ট্রাম্প জানতে চান, অন্য কোনো দেশের শীর্ষ নেতাদেরও এখানে এভাবে স্বাগত জানানো হয় কি না। জবাবে শি বলেন, “খুবই কম। শুরুর দিকে আমরা এখানে কোনো কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতাম না। পরে শুরু করলেও এটি অত্যন্ত বিরল। যেমন পুতিন এখানে এসেছেন।”
কথোপকথনের এক পর্যায়ে শি জিনপিং ট্রাম্পকে একটি ২৮০ বছরের পুরনো গাছ ছুঁয়ে দেখতে বলেন। গাছটি স্পর্শ করে ট্রাম্প ইতিবাচক মন্তব্য করেন। দুই বিশ্ব নেতার এমন ঘরোয়া ও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। বাগানে ট্রাম্প গোলাপ ফুলের প্রশংসা করলে শি জিনপিং তাকে উপহার হিসেবে সেই ফুলের বীজ দেওয়ারও প্রস্তাব দেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজ দেখার উদ্দেশ্যে হাঁটার সময় শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি আলাপচারিতাও একইভাবে মাইকে প্রকাশ্যে এসেছিল। সেখানে তাদেরকে অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং মানুষের ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে শোনা গিয়েছিল।


