এনএনবি : “ইউক্রেইনের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে,” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এমনটিই মনে করেন বলে শনিবার জানিয়েছেন। মস্কোর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ থেকে ইউক্রেইন যুদ্ধে জয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করার কয়েক ঘণ্টা পরই এই মন্তব্য করেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের জয়ের স্মরণে রাশিয়ায় বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। গত কয়েক বছরের তুলনায় রাশিয়ার এবারের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ছিল অনেকটাই অনাড়ম্বর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় সংঘাত রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পুতিন বলেন, “আমার মনে হয় বিষয়টি শেষ হতে চলেছে।”
তাছাড়া, নতুন করে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় বসার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। সেক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডার তার কাছে পছন্দনীয় বলে জানিয়েছেন পুতিন। ২০২২ সালে ইউক্রেইনে শুরু করা রাশিয়ার সামরিক অভিযান মস্কোর সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কে নজিরবিহীন টানাপোড়েন তৈরি করেছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় যে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা এখন স্থগিত আছে। তবে ইউক্রেইনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ সব লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার বারবারই করে এসেছেন পুতিন। শনিবার ক্রেমলিনে বসে দেওয়া বক্তব্যে ইউক্রেইনে যুদ্ধ শুরুর কারণও ব্যাখ্যা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এ যুদ্ধের জন্য দায়ী ‘বিশ্বায়নপন্থি’ পশ্চিমা নেতারা। তার অভিযোগ, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর নেটো জোট আর পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে ইউক্রেইনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বলয়ে টানার চেষ্টা করে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। ইউক্রেইনের মাটিতে রুশ সেনারা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে লড়ছে। রাশিয়ায় যা ‘গ্রেট প্যাট্রিয়টিক ওয়ার’ বা মহান দেশপ্রেমের যুদ্ধ (১৯৪১-৪৫) নামে পরিচিত, সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের লড়াইয়ের মেয়াদকেও ইতিমধ্যে ছাপিয়ে গেছে বর্তমানের এই যুদ্ধ। ১৯৯৯ সালের শেষ দিন থেকে কখনও প্রেসিডেন্ট, কখনও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত আড়াই দশক ধরে রাশিয়া শাসন করে আসছেন পুতিন। তবে ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে এখন মস্কোতেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইউক্রেইনের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপ। যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। টান পড়েছে রাশিয়ার অর্থনীতিতেও। ইউরোপের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক এখন স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের চেয়েও খারাপ।ওদিকে, ইউক্রেইনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা এখনও মস্কোর দখলে থাকলেও চলতি বছর রুশ সেনাদের অগ্রগতির গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেইন উভয়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে একতরফা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। এই পরিস্থিতিতে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত নতুন করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ক্রেমলিন ও কিইভ উভয়ই এই ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়েছে। পাশাপাশি এক হাজার যুদ্ধবন্দি বিনিময়েও রাজি হয়েছে দুই দেশ। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, “আমি এই যুদ্ধ বন্ধ দেখতে চাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রাণহানির নিরিখে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ সবচেয়ে খারাপ। প্রতি মাসে ২৫ হাজার তরুণ সেনা হতাহত হচ্ছে। এটা স্রেফ পাগলামি।”


