এনএনবি : বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, সয়াবিন তেলের ৫ লিটারের বোতলে দাম হবে ৯৭৫ টাকা। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ১২ টাকা বাড়িয়ে ১৮৯ টাকা করেছে সরকার। পাম তেল মিলবে আগের দরেই। বুধবার সচিবালয়ে ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে একথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি ব্যাহত হলে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। তবে গত ১২ এপ্রিল বাজারে ভোজ্যতেলের ‘পর্যাপ্ত’ সরবরাহ রয়েছে দাবি করে ভোক্তাদের ‘অহেতুক’ আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সে সময় দাম না বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন তিনি। দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে শেষে তিনি বলেন, “অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, রূপচাঁদা ও তীর, এই দুই ব্র্যান্ডের কমতি। আবার ফ্রেশের সরবরাহ আছে, আবার অনেকে খোলা তেল বেচেন, তাদের সরবরবাহও আছে। নতুন একটা ব্র্যান্ড দেখলাম। এগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে দুই দিকেই কথা আছে। তবে মোদ্দাকথা, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কোনো কোনো ব্র্যান্ডের কম, এটা আমি ওই দিনের বাজারে দেখেছি। এ সমস্ত পরিস্থিতি মূল্যায়নে বসেছি আজকে আমরা।” গত ৯ এপ্রিল থেকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিল মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি এর কয়েক দিন আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠালেও সরকারের সায় মেলেনি। একই ঘটনা ঘটে গত বছরের ডিসেম্বরে। তখনও তারা দাম সমন্বয়ের তথ্য দিলে অন্তর্বর্তী সরকার সেটি অবগত নয় যুক্তিতে বাড়াতে দেয়নি। এবারও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর বিপরীতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশি দামে বিক্রির জন্য জরিমানাও করে। এবার এসে সরকারই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল।


