এনএনবি : পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু হয় বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস।
এর মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পথ তৈরি হয়েছে।
এর আগে দুপুরেই সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল হেলিকপ্টারে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছান। তাদের উপস্থিতিতেই পারমাণবিক চুল্লিতে ফুয়েল স্থাপনের কাজ শুরু হয়।
ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের সময় নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের সূচনার মাহেন্দ্রক্ষণে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, ইউরেনিয়াম লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু জটিল কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে।
উৎপাদনের প্রাথমিক এ প্রক্রিয়াকে প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলছেন পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান শৌকত আকবর।
তার মতে, ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের মাধ্যমে দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল পর্যায়ে প্রবেশ করছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভৌত যাত্রা; যেখানে চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তি উৎপাদন শুরু হয়।
ফুয়েল লোডিং এবং আনুষঙ্গিক পরীক্ষা শেষে সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ বা আগস্ট মাসের দিকে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এ কেন্দ্র থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পে দুটি ইউনিট থেকে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।


