এনএনবি : পুরানো বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে ও সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিকে তার প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছে, বিভিন্ন ডেটা সেন্টারের বিশাল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এখন থেকে তাদের নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে, অর্থাৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে হবে। রয়টার্স লিখেছে, সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ডেটা সেন্টার প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে যে ক্ষোভ বাড়ছে তার মধ্যেই এ ঘোষণা এল, যেখানে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার জন্য এসব ডেটা সেন্টারকে দায়ী করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, “আজ রাতে আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, নতুন এক ‘রেট পেয়ার প্রোটেকশন প্লেজ’ বা গ্রাহক সুরক্ষা অঙ্গীকার নিয়ে কথা বলছি আমি। আপনারা জানেন সেটি কী? আমরা বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিকে বলেছি, তাদের নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর দায়িত্ব এখন থেকে তাদের নিজেদেরই। “আমাদের বিদ্যুৎ গ্রিড অনেক পুরানো। এতো বিশাল পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা সামলানোর সক্ষমতা এর নেই। ফলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বলেছি, তারা যেন নিজেদের বিদ্যুৎকেন্দ্র নিজেরাই বানিয়ে নেয়। তারা নিজেরাই নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এতে যেমন কোম্পানিগুলোর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে তেমনই আপনাদের জন্য বিদ্যুতের দামও কমে আসবে।” তবে নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির নাম উল্লেখ করেননি ট্রাম্প এবং এ পরিকল্পনা কীভাবে কার্যকর বা বাধ্যতামুলক হবে সে বিষয়েও বিস্তারিত জানাননি তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, এ উদ্যোগটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে হোয়াইট হাউস আগামী মার্চের শুরুতে বিভিন্ন কোম্পানিকে নিয়ে এক বৈঠকের আয়োজন করতে পারে। চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বা এআই বিকাশে সমর্থন দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা বিভিন্ন এআই ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়াটা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য এক রাজনৈতিক ঝুঁকি বা দুর্বলতার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গেল মাসে নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে আমেরিকার অন্যতম বড় বিদ্যুৎ গ্রিড অপারেটর ‘পিজেএম ইন্টারকানেকশন’। তাদের পরিকল্পনা অনুসারে, যেসব বড় গ্রাহক নতুন করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে তাদের হয় গ্রিডে নতুন করে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে বা গ্রিডের ওপর চাপ বেশি থাকলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। এদিকে, অ্যানথ্রপিক ও মাইক্রোসফটের মতো বিভিন্ন কোম্পানিও এরইমধ্যে স্বেচ্ছায় বেশ কিছু উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। তাদের লক্ষ্য, বিভিন্ন ডেটা সেন্টারের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের ওপর যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।


