কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কুশলীবাসা এলাকার খ. ম. তোফাজ্জল হোসেনের পুত্র খ. ম. হাসানুজ্জামান হাসান (এনআইডি নম্বর: ২৮৩ ৫২৫ ৮২০৯) এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে লাপাত্তা থাকার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে বড় অংকের অর্থ নিয়ে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের ধরণ
প্রাপ্ত নথিপত্র ও আদালত সূত্রে জানা যায়, হাসানুজ্জামান হাসান জমি কেনাবেচা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জনৈক আহসান হাবীবের কাছ থেকে তিনি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ৬০ লক্ষ টাকা ধার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পাওনাদার টাকা ফেরত চাইলে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি চেক প্রদান করেন, যার মোট অংক ৫৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংক চেকে জালিয়াতি ও মামলা
হাসানের দেওয়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (চৌড়হাস উপ-শাখা), রূপালী ব্যাংক (স্বস্তিপুর শাখা), স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকের চেকগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিলে সেখানে “ওহংঁভভরপরবহঃ ঋঁহফ” (অপর্যাপ্ত তহবিল) এবং “ওহড়ঢ়বৎধঃরাব অপপড়ঁহঃ” উল্লেখ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেগুলো ডিজঅনার করে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীরা ‘দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট- ১৮৮১’ (ঞযব ঘবমড়ঃরধনষব ওহংঃৎঁসবহঃং অপঃ- ১৮৮১) এর ১৩৮ ধারায় বিজ্ঞ সিনিয়য় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কুষ্টিয়ায় একাধিক মামলা দায়ের করেন (সি.আর মামলা নং- ৬৬০/২০২৩, ৬৬১/২০২৩ এবং ৬৬৭/২০২৩)।
ভুক্তভোগীদের দাবি ও প্রশাসনের নীরবতা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে হাসান এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন। প্রভাবশালী মহলের দাপট দেখিয়ে এবং প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি একের পর এক প্রতারণা চালিয়ে গেছেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে না পারায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসন অতি দ্রুত এই ব্যক্তিকে” গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবী ভুক্তভোগীদের। তবে এ ব্যাপারে হাসানুজ্জামান হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


