কাগজ প্রতিবেদক ॥ সারাদেশে বোরো ধান আবাদে কৃষকরা যখন সেচ ও ডিজেল নিয়ে চিন্তিত তখন কুষ্টিয়াসহ তিন জেলায় সেচ কাজে ব্যবহার হচ্ছে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের পানি। কোন ধরনের বিড়ম্বনা ও ভোগান্তি ছাড়াই লক্ষাধিক কৃষক কম খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের শাখা ক্যানালগুলো সংস্কার ও গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের আওতায় না থাকায় এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার অনেক কৃষক। ফলে বর্তমানে ডিজেল সংকটে জমিতে ঠিকমত সেচ দিতে না পেরে চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা। আর কৃষকরা যাতে সহজেই সারা বছর সেচের পানি ব্যবহার করতে পারেন সেই জন্য সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জানা যায়, দেশব্যপী চলছে বোরো ধানের মৌসুম। ইরান- যুক্তরাষ্ট/ইজরাইল যুদ্ধের প্রভাবে বোরো আবাদে সারাদেশের কৃষকরা যখন সেচ ও ডিজেল নিয়ে চিন্তিত। পেট্রোল পাম্পগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থেকেও মিলছে না চাহিদামত ডিজেল। ঠিক তখন কুষ্টিয়া জেলার বেশিরভাগ জমিতে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের পানিতে বোরো আবাদ করছেন চাষীরা। সেচ দেওয়া নিয়ে তাদের নেই কোন ভাবনা। ডিজেলের জন্য ধরনা দিতে হচ্ছে না পাম্পে। সেচ প্রকল্পের পানিতে বছরে মাত্র ২০০ টাকায় বোরোসহ অন্যান্য আবাদ করছেন জেলার শতশত কৃষক। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া তাঁতিবন্ধ গ্রামের কৃষক মহিদুল জানান, তারা আগে বেশ কষ্ট করে তেল দিয়ে চালিত সেচ পাম্প দিয়ে ফসল ফলাতো তাতে লাভের চাইতে লোকসানের পরিমান হতো বেশি। এ বছর এই প্রথম জিকে ক্যানেলের পানি দিয়ে বোরো আবাদ করছে, কেউ সবজি চাষ করছে এমন সময় কোন পানির সংকট হচ্ছে না। তার মত একই কথা জানালো মশান গ্রামের কৃষক আজমল হোসেন। তিনি জানান, তিনি চারবিঘা জমিতে এবার বোরো এবং দুই বিঘা জমিতে সবজি, এক বিঘা জমিতে ভুট্রো চাষ করেছে তাতে যে পানির প্রয়োজন হয়েছে। সে পানি জিকে খাল থেকেই সংগ্রহ করেছে। এমনিতেই ডিজেল সংকট, তার উপর লাইন দিয়ে তেল নিতে গেলে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এ বছর জিকে খালের পানি থাকায় পাম্প চালাতে হয়নি। খুভ ভালো ফলন হয়েছে বলে জানান তিনি।
জিকে সেচ ব্যবস্থাপনা ফেডারেশন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাফায়েত হোসেন পল্টু জানালেন, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার কৃষকরা সেচ সুবিধা পাচ্ছেন বোরোতে। কৃষকদের সেচ সুবিধা দিতে সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। কৃষক নেতারা বলছেন, খাল দখল মুক্ত, নিয়মিত খনন ও লোকবল নিয়োগ দিলে কৃষকরা আরো সুবিধা পাবে। জিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশিদুর রহমান জানালেন, চলতি বছর কুষ্টিয়া জেলার ১০ হাজারসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে ডিজেলের পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে কৃষকদের। কৃষিতে বাড়তি সুবিধা দিতে চলতি বছর আরও ৫০৮ কিঃ মিঃ খালকে পুর্ণজীবিত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
একদিকে বৈশি^ক সংকট আরএকদিকে প্রাকৃতিক জীব-বৈচিত্রের প্রভাব। শুষ্ক মৌসুমে এর প্রভাব তীব্র আকার ধারণ করে। যেখানে খাবার পানিই বড় ধরণের সমস্যা সেখানে সেচ কাজে স্বাভাবিক পানি প্রাপ্যতা অনেকটা দুরহ। এই জ¦ালানী সংকটকালে জিকের সেচ পানি এমন প্রাপ্যতা কৃষকদের অনেকটা উৎসাহ জুগিয়েছে। তবে আগামীতে এ অবস্থা স্থায়ীকরণ করা হলে এ অঞ্চলের কৃষকদের শুষ্ক মৌসুস আসলে কোন শংকা থাকবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


