কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার (২০এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে কর্মবিরতি দিয়ে হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করে বিক্ষোভ করেন হাসপাতালের ভুক্তভোগী ওয়ার্ড বয় ও আয়ারা। পরে দুপুরে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। স্মারকলিপিতে কর্মীরা অভিযোগ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার স্বচ্ছতা বা নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে না। বরং মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দক্ষ ও পুরাতন কর্মীদের বাদ দিয়ে অদক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। স্মারকলিপিতে উল্লেখিত প্রধান অভিযোগগুলো হলো- আউটসোর্সিং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নীতিমালার চরম অভাব। যোগ্যতা যাচাই না করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে লোক নিয়োগ। নির্ধারিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানে অসঙ্গতি। দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন কর্মীদের কাজে অবহেলা ও নিয়মিত উপস্থিত না থাকা। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা। স্মারকলিপি প্রদানকারী কর্মীরা জানান, অভিজ্ঞ কর্মীদের ছাঁটাই করে অর্থের বিনিময়ে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়ায় হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধ না হলে জনস্বাস্থ্যের মান আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ভুক্তভোগী অর্ধশতাধিক কর্মীর স্বাক্ষর সম্বলিত এই স্মারকলিপিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম স্বচ্ছ ও কার্যকর করার জন্য জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মুখপাত্র রাজু আহম্মেদ বলেন, আমরা পুরাতন লোক, হাসপাতালে বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকি। কিন্তু ঠিকাদার হাসপাতালে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করেছে। আমাদেরকে বাদ দিয়ে দেন। আমাদের দাবি, হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে হলে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আমাদেরকে নিতে হবে। এজন্য জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আবদুল মন্নান বলেন, আমাদের হাসপাতালে আউটসোর্সসিংয়ে নিয়োগ ছিল ৩৪ জন। ঠিকাদারের সাথে আয়া, ওয়ার্ড বয়, ওটি বয়, কুক মশালচি, সহকারী বাবুর্চিসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩৪ জন নিয়োগের চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী ৩৪ জন লোক নির্ধারণ করে আমাদেরকে দেয়। আমরা কাগজপত্র চেক করি, তারা সুস্থ-সবল আছে কি না কাজে উপযুক্ত কি না, সেভাবে দেখে নেই। বেসিক্যালি আউটসোর্সিংয়ে আমাদের চুক্তি হচ্ছে ঠিকাদারের সাথে ৩৪ জন বৈধ সেবা জনবল সরবরাহ করার জন্য। এই ৩৪ জন আজ থেকে কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়। সে অনুযায়ী তারা আমাদেরকে লোকজন সরবরাহ করে। ঠিকাদার লোক সরবরাহ করতে এসেছিল। তখন হাসপাতালে অতীতে যারা কাজ করতেছিল, তারা এতে বাধা দেয়। তাদের দাবি হলো- আমরা যেহেতু এখানে আগের থেকে কাজ করি, তাহলে আমাদের একটা অগ্রাধিকার রয়েছে। সে প্রেক্ষিতে তারা এখানে একটি মানববন্ধন করে। ওরা এখানে ১০০ জনের বেশি কাজ করে। তাহলে ৩৪ জনের এগেইনেস্টে এত লোককে নেওয়া সম্ভব না। আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে আমার সাথে কথা হচ্ছে ঠিকাদারের সাথে। এটা তো বেসিক্যালি দ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের কাছ থেকে সেবাটা নিচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


