এনএনবি : ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার জন্য ইসরায়েল কোনও প্ররোচনাই যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়নি বলে এবার দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে যুদ্ধ শুরু করা এবং এর পেছনে আসল শক্তি হিসাবে ইসরায়েলের জড়িত থাকা নিয়ে ক্রমাগত বাড়তে থাকা সমালোচনার মুখে ট্রাম্প একথা বললেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথ ভাবে হামলা করেছিল ইরানে। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে। ইসরায়েলই প্ররোচনা দিয়েছিল ওয়াশিংটনকে, এমন কথাও শোনা যেতে শুরু করে। সেই প্রেক্ষিতেই সোমবার এমনটি দাবি করলেন ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর কথা ইসরায়েল আমাকে কখনও বলেনি।” বরং ‘ইরানের হাতে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না’- এই ভাবনা থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। ইরানে যুদ্ধ শুরুর ৮ মাস আগে থেকে ট্রাম্প বারবার বলে এসেছেন যে, গত বছর জুনে ইরানে বিমান হামলায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়েছে। তবে ট্রাম্পের সমালোচকরা অনেকেই বলছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসন্ন কোনও হুমকি নয়। ইরানে যুদ্ধ শুরু করে আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির মূল্যে কেবল ইসরায়েলের স্বার্থকেই এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া, হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে তেলের দামও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রভাবে জ্বালানির দাম আকাচুম্বি হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। এনবিসি নিউজের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দুই তৃতীয়াংশ আমেরিকান ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ সমর্থন করে না। ট্রাম্পকে নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকার মধ্যে সমালোচকদের অনেকেই বলছেন, ইরানে যুদ্ধের পেছনে ইসরায়েলই মূল শক্তি, আর ট্রাম্প একজন দুর্বল নেতা। গত সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটিক দলের কমলা হ্যারিস বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী) তাকে এই যুদ্ধে টেনে এনেছেন। এমন একটি যুদ্ধ যা আমেরিকার জনগণ চায় না।”


