কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া অঞ্চলে সংরক্ষিত নারী সংসদীয় আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলেন এবং আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী বৃহত্তর কুষ্টিয়ার মাটি ও মানুষের নেত্রী ভেড়ামারার কৃতি সন্তান ফরিদা ইয়াসমিন। ত্রোয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে সারাদেশ থেকে প্রায় ২ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯শ জনের ভাইপা গ্রহন করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এর পর যাচাই-বাছাই শেষে ৩৬ জনের মনোয়নকে চুড়ান্ত ঘোষণা করেন রবিবার রাতে বিএনপি দলীয় কেন্দ্রীয় কমিটি। আজ মঙ্গলবার ৩৬ জন নির্বাচন কমিশনে তাদের মনোয়ন জমা দেবেন। নির্বাচন কমিশন শুধু বিধি মোতাবেক কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার কৃতি সন্তান ফরিদা ইয়াসমিনসহ ৩৬ জনকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে। এই বিশাল কৃতিত্বকে বৃহত্তর কুষ্টিয়াবাসী তাদের আন্দোলন সংগ্রামের ফসল মনে করছেন। মনোনীত সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন একজন নিবেদিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হওয়ায় বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মিদের মধ্যে এক ধরণের উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে। তারা মনে করছেন তাদের নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের সার্বিক কল্যাণে কাজ করবে। যা তারা এতদিন পায়নি। এদিকে ফরিদা ইয়াসমিনের নাম ৩৬ জনের মধ্যে তালিকায় থাকায় কুষ্টিয়া-মিরপুর-ভেড়ামারাসহ পুরো জেলা জুড়ে আলোড়ন পড়ে গেছে। সাজ-সাজ রব পড়ে গেছে তাকে বরণ করতে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও ত্যাগের স্বীকৃতি
ফরিদা ইয়াসমিন ১৯৯২ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। দলীয় দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নেতাকর্মীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত।
২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে দলীয় কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন—যা তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হয়।
বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার একাধিক আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরাজয়ের পর দলীয় অবস্থান পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক শক্তি সুদৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনে একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, ফরিদা ইয়াসমিনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে— বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে
এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে
শিক্ষাজীবন ও পেশাগত পরিচয়
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (এম.এ) ও বি.এড ডিগ্রিধারী ফরিদা ইয়াসমিন পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি ঢাকার শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এই নেত্রীকে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত মুখ হিসেবে বিবেচনা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা
১৯৯২ সালে ধানমন্ডির উপনির্বাচনের সময় দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তার রাজনীতিতে পথচলা শুরু। সেই সময় নির্বাচনী কার্যক্রমে নারীদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পান। এরপর ধারাবাহিকভাবে মহিলা দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।
তার রাজনৈতিক দায়িত্বসমূহের মধ্যে রয়েছে—
মহিলা দলের সাধারণ সদস্য (১৯৯২)
৪৮নং ওয়ার্ড, ধানমন্ডি থানা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক (১৯৯৬)
হাজারীবাগ থানা মহিলা দলের আহ্বায়ক ও পরে সভানেত্রী (১৯৯৮-১৯৯৯)
কুষ্টিয়া জেলা শাখার জয়েন কনভেনর (২০০৮)
অবিভক্ত ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক (২০১০)
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (২০১৭)
কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সদস্য (২০২১)
বর্তমানে ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলায় দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছেন।
পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিচয়
স্বামী: প্রকৌশলী কে.এম. হামিদুর রহমান (অবসরপ্রাপ্ত)
সন্তান: দুই পুত্র
কে. এম. এরফান হামিদ (পিএইচডি), যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত।
কে. এম. বায়েজীদ হামিদ, উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আজীবন সদস্য। এছাড়া ক্রীড়া অঙ্গনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
তৃণমূলের প্রত্যাশা
কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—সংরক্ষিত নারী আসনে ফরিদা ইয়াসমিন মনোনয়ন পাওয়ায় দল যেমন উপকৃত হয়েছে, তেমনি নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, “তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে সবসময় সামনের সারিতে ছিলেন। কুষ্টিয়ায় নারী নেতৃত্বের এক অনুপ্রেরণার নাম ফরিদা ইয়াসমিন। রাজপথের এই নেত্রীকে সংসদে দেখতে চাই।” তাদের সে আশা পুরণ হয়েছে।
ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “দলের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামে এবং দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। দলের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলাম। কাজের মূল্যায়ন করেছে দল। তাই বৃহত্তর কুষ্টিয়াকে আমি উন্নয়নের আওতায় আনতে সকলের সার্বিক সহযোগীতা ও দোয়া কামনা করেছেন।


