কাগজ প্রতিবেদক ॥ ঈমাম মাহদীর যুদ্ধে যাওয়ার কথা বলে কুষ্টিয়ায় এক মাস যাবত নিখোঁজ বাবা, মেয়ে সহ তিন জন। অনেক খোজা খুজির পরেও মেলেনি তাদের সন্ধান। পরিবারের অভিযোগ চুয়াডাঙ্গার এক কবিরাজের বিরুদ্ধে। থানায় অভিযোগ পুলিশ বলছে তাদের সর্বশেষ মোবাইল লোকেশন নিজ এলাকাতেই দেখাচ্ছে এরপর আর মিলছে না কোন তথ্য তবে কাজ করছে গোয়েন্দা সদস্যরা। এ নিয়ে চরম উৎকন্ঠা, আতংকে পড়েছেন পরিবার ও এলাকাবাসী।
জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোপালপুর এলাকার আব্দুল ওহাবের কলেজ পড়–য়া কন্যা নুসরাত জাহান চলতি বছরের গেলো ফেব্রুয়ারীর ৮ তারিখে কুষ্টিয়া শহর থেকে ফিরে বান্ধবীসহ পিতা আব্দুল ওহাবকে নিয়ে একসাথে নিখোঁজ হয়েছেন তিন জন। একমাস অতিবাহিত হলেও মেলেনি তাদের সন্ধান। নিখোঁজের আগের দিন মেয়ে ঈমাম মাহাদীর যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়ে বলেছিলেন মায়ের কাছে, তাতে সাই দিয়েছিলেন পিতাও। এর পর অনেক চেষ্টা করেও তাদের থামানো যায়নি।
এ ব্যাপারে নিখোঁজ আব্দুল ওহাবের স্ত্রী জানান, আমাকে এসে বলছে, ঈমাম মেহেদীর যুদ্ধে যাব আমরা তুমি কি বলো, তখন আমি বললাম ওরা কোন দিন যুদ্ধ করতি পারবি না, তুমি এসব কি বলছো, সে আমাকে বলে, তোমার ঈমানী শক্তি এত কম। তাদের কথায় আমি রেগে যাওয়ায় বাপ-মেয়ে দুইজনই চুপ হয়ে গেল। তার পর বাড়ী থেকে বেরিয়ে গেল আর ফিরে আসেনি।
এ ঘটনায় পূর্ব পরিচিত চুয়াডাঙ্গার লস্কর কবিরাজের সাথে যোগসুত্র খুঁজছেন পরিবারটি। একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে তৃষাও নিখোঁজ বান্ধবী নুসরাত জিহানের সাথে। অপহরণ অথবা কালো যাদু সহ নানা ধরণের অনুমান করে তাদের ফিরে পাওয়ার আকুতি। নিখোঁজের পরে বিষয়টি চাপা থাকলে এখন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এলাকা জুড়ে। নিখোঁজ তিন জনকেই ফিরে পাওয়ার দাবী আত্মীয় স্বজন সহ এলাকাবাসীর।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, তাদের ব্যবহৃত মোবাইলের লোকেশন নিজ গ্রাম পর্যন্তই তারপর আর তাদের কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না তবে চেষ্টা চলছে।
ধর্মীয় অনুভুতিকে পুঁজি করে একটি মহল গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে আগে টার্গেট করতো এখন শিক্ষিতরাও ছাড় পাচ্ছেন না। এ তিনজকে নিয়ে গেছে। এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে। এতে বিপাকে পড়ছেন পরিবার ও প্রশাসন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোপালপুর এলাকার উচ্চ শিক্ষিত আব্দুল ওহাব মোল্লার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে নুসরাত জিহান এবং বান্ধবী রুকাইয়া রহমান তিশার অপেক্ষায় দুই পরিবার।


