কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবার শরিফে পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হওয়ার পর চারদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিবেশের মধ্যে পীরের ভক্তরা ভয় ও শঙ্কার কথাও বলছেন। তবে যেহেতু স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে, তাই ভয়ের কোনো কারণে নেই বলে বলছেন ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন। আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, “এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা না করার বিষয়ে পুলিশের উপর কোনো চাপ নেই। এখানে আসামিরা কে কোন দলের লোক, পুলিশের কাছে এর কোনো গুরুত্ব নেই। মামলা হয়েছে, পুলিশ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে, যারাই জড়িত থাক তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।” ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শনিবার দুপুরে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত আস্তানায় শত শত লোক হামলা ও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পিটিয়ে ও কুপিয়ে শামীম রেজাকে হত্যা করা হয়। হামলায় আরও তিন ভক্ত মহন আলী, জামিরুন ও জুবায়ের গুরুতর আহত হন। তারা চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রোববার দুপুরে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাদ আছর তাকে স্থানীয় দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলপনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়। হামলাকারীদের ভয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান মামলার বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় চারজনের নামসহ অজ্ঞাত পরিচয় ২০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার দিন জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসের নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোক পীরের আস্তানায় হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন বাদী। এদিকে উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে পীর হত্যার বিচার দাবিতে কয়েকশ ভক্ত নারী-পুরুষ মিছিল করেছে। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় ভক্ত আশিক বলেন, “মামলা হবে না হবে না করে শেষ পর্যন্ত মামলা হলেও সেই মামলা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। একটা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা কথা বলছে। আমরা এত কিছু বুঝি না, আমরা বিচার চাই। আমাদের বাবাকে যারা মেরেছে তাদের ফাঁসি চাই।”


